রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৩ আগস্ট রাতে চালানো অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আদালত নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালত আজ রোববার বিকেলে শুনানি শেষে ১৫ আসামির প্রত্যেককে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পুলিশ প্রোসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাকিব, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা, জিহাদ হাসান, আবু সাইম, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি ও রাজন মিয়া। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান ১৫ আগস্ট তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেদিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। সেই অনুযায়ী আজ কারাবন্দী অবস্থায় থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত প্রত্যেকের জন্য এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে একই মামলায় গত ১৯ আগস্ট যুবলীগ নেত্রী মেহজাবীন আক্তার মালাসহ আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুসারে, ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় ভাটারা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।

পরদিন ১৪ আগস্ট আটককৃত ৫২ আসামিকে কারাগারে এবং আইনের সংঘাতে আসা দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে একত্র হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা সেখানে সমবেত হন। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।