গাজীপুর নগরের সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় এক জুয়েলারি দোকানের মালিককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে দোকান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবুল কালাম আজাদ (৪২) ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তার শরীরে ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম আজাদ। সাধারণত সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলতেন তিনি। কিন্তু আজ সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও দোকান বন্ধ থাকায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। পরে নিহতের ভাই কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন গিয়ে দেখতে পান দোকানের শাটার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বলেন, দোকানের মেঝেতে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ ছিল এবং পাশেই একটি খোলা সিন্দুক পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা, সিন্দুক থেকে স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। তবে শোকেসে রাখা ডামি স্বর্ণালংকারে হাত দেয়নি দুর্বৃত্তরা।
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ড ও লুটের ঘটনায় জড়িতরা ওই ব্যবসায়ীর পূর্বপরিচিত হতে পারে। পরিচিত হওয়ায় তাদের ডাকে তিনি দোকান খুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন, ফলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পাননি। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা শাটারে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে, তা জানাতে পারেনি পুলিশ।




