চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ম্যালার র্যাশ নামে পরিচিত এই সমস্যা সাধারণ মানুষের কাছে বাটারফ্লাই র্যাশ হিসেবে বেশি পরিচিত। নাকের দুই পাশ থেকে গাল পর্যন্ত বিস্তৃত প্রজাপতির ডানার মতো লালচে চিহ্ন অনেক সময় সাধারণ অ্যালার্জি, রোদে পোড়া কিংবা প্রসাধনী ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভুল বোঝা হয়। কিন্তু এই লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর পেছনে গুরুতর শারীরিক জটিলতা লুকিয়ে থাকতে পারে।
এই র্যাশের সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুতর কারণ হলো সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমেটোসাস, সংক্ষেপে এসএলই। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। ফলে শুধু ত্বক নয়, জয়েন্ট, কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক এমনকি রক্তকণিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাটারফ্লাই র্যাশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মুখে এমন দাগ মানেই লুপাস নয়—এই বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। একনি বা ব্রন, রোসেসিয়া, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও এটপিক ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের সাধারণ সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া সূর্যের আলোর প্রতি ত্বকের অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হৃদযন্ত্রের ভালভের রোগ অথবা ত্বকের অন্যান্য রোগেও এই র্যাশের সৃষ্টি হতে পারে।
যদি এই লালচে দাগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সন্ধি ব্যথা, অকারণে জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে ঘা, চুল পড়া, রোদে বেরোলেই ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি, হাত-পা ফুলে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়—তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া অত্যাবশ্যক। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত রক্তের কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে এএনএ, অ্যান্টি ডিএস ডিএনএ ও কমপ্লিমেন্ট লেভেল পরীক্ষা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রকৃত কারণ ও তীব্রতা নির্ধারণ করা হয়।
চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ভর করে র্যাশের অন্তর্নিহিত কারণের ওপর। লুপাসের কারণে হলে রোগের তীব্রতা অনুসারে ওষুধ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে সূর্যরক্ষক ক্রিম ব্যবহার, ছাতা বা টুপি পরিধান এবং দীর্ঘ সময় রোদে না থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো স্টেরয়েড বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সময়মতো রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর ফলে রোগী স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপনে সক্ষম হন। সুতরাং ত্বকের এই পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।




