যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা যখন নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরছে, তখন দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কথা জানিয়েছে — বর্তমান উচ্চ বিদ্যালয়ের স্নাতকরা আগের প্রজন্মের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে কম প্রস্তুত। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে তারা কাজ সম্পাদন করতে পারলেও সমালোচনামূলক চিন্তা ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন নিয়োগকর্তারা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৪০ শতাংশ নিয়োগকর্তা মনে করেন সহজে এন্ট্রি-লেভেল প্রার্থী পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে যোগাযোগ, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের মূল ধারণা সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান রয়েছে।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি শিক্ষাবিদরাও একই ঘাটতি লক্ষ্য করছেন। উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠন কীভাবে পরিচালিত হয়, অর্থের প্রবাহ কীভাবে কাজ করে এবং একটি ধারণা কীভাবে সুযোগে রূপ নেয় — এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশের কম শিক্ষার্থী ব্যবসা বিষয়ক কোর্স গ্রহণ করে থাকে; যা প্রায়ই ইলেকটিভ হিসেবে বা ব্যবসায় ডিগ্রির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়, কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা হিসেবে নয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই বৈষম্য বিদ্যমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রামীণ ওকলাহোমায় নীল নামের এক ব্যক্তির উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কলেজ বা কারিগরি — দুই ভাগে আলাদা করত। তার বাবা-মা ছোট ব্যবসার মালিক ছিলেন, কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল সম্পর্কে তাদের তেমন জ্ঞান ছিল না। নীল কলেজ ট্র্যাক বেছে নেন, যেখানে ব্যবহারিক দক্ষতা শেখার সুযোগ ছিল সীমিত। অন্যদিকে কারিগরি ট্র্যাকের শিক্ষার্থীরাও ব্যবসা সম্পর্কিত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকত। পেনসিলভানিয়ার উইলিয়ামসপোর্টে গ্রেগের বাবা-মা বিমান কারখানার শ্রমিক ছিলেন; তারা একাধিকবার ছোট ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ব্যবসার মডেল তৈরি ও পরিচালনার দক্ষতার অভাবে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন।
এই অভিজ্ঞতা বিচ্ছিন্ন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যবসায়িক সাক্ষরতা এখন আর ঐচ্ছিক নয় — এটি আধুনিক সমাজে পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বাজেট, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ব্যবহারিক দক্ষতার বাইরেও শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি কীভাবে চলে, সংগঠন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং দল পরিচালনার কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। চারুকলায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ব্যবসা শিক্ষা পেলে সৃজনশীল উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে শিখবে; কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী উদ্ভাবনকে বাজারে আনতে পারবে; আর কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ছোট ব্যবসা পরিচালনার সরঞ্জাম পাবে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। নিয়োগকর্তারা স্কুলের সাথে অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসছেন, রাজ্যগুলো আর্থিক সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তা জোরদার করছে — কাউন্সিল ফর ইকোনমিক এডুকেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৯টি রাজ্যে এখন স্নাতক হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত অর্থ বিষয়ক কোর্স বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীরাও তাদের ভবিষ্যতের সাথে প্রাসঙ্গিক এমন শিক্ষার পক্ষে সোচ্চার হচ্ছে। বিজনেস প্রফেশনালস অব আমেরিকা, ডেকা এবং ফিউচার বিজনেস লিডার্স অব আমেরিকার মতো সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দেখায় যে, ব্যবসা প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্ব উন্নয়নে অংশ নিলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে এই সুযোগগুলো এখনও অনেকাংশে শিক্ষার্থীর অবস্থান ও স্কুলের সুবিধার উপর নির্ভরশীল।
এই ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অফ কমার্স ও কলেজ বোর্ড যৌথভাবে একটি সমাধান চালু করেছে। দেশজুড়ে এখন 'এপি বিজনেস উইথ পার্সোনাল ফাইন্যান্স' কোর্স পাওয়া যাচ্ছে, যা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর একাডেমিক পাঠের সাথে নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী বিষয়বস্তু যুক্ত করেছে। এই কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একই সাথে কলেজ ক্রেডিট ও নিয়োগকর্তার স্বীকৃতি অর্জন করতে পারবে। ব্যবসা ও ব্যক্তিগত অর্থায়নকে একত্রিত করায় শিক্ষার্থীরা শুধু অর্থ ব্যবস্থাপনাই শিখবে না, কীভাবে সুযোগ সৃষ্টি করতে হয় তাও বুঝতে পারবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রথম 'বিজনেস ক্যানভাস' প্রকল্পে কাজ করছে, যেখানে তারা নিজেদের পছন্দের ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি ও উপস্থাপন করছে।
এই কোর্সটি কলেজ বোর্ডের 'এপি ক্যারিয়ার কিকস্টার্ট' কর্মসূচির অংশ, যা বিদ্যমান ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা প্রোগ্রামের সাথে খাপ খাওয়ানো যায়। সংগঠন দুটির মতে, কোনো শিক্ষার্থীর উচিত নয় নিজের দক্ষতা আয়ত্ত করা এবং সেই দক্ষতাকে অর্থনৈতিক গতিশীলতায় রূপ দেওয়ার মধ্যে বেছে নেওয়া। উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতায় ব্যবসা ও আর্থিক সাক্ষরতা যুক্ত করলে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে সজ্জিত করা সম্ভব — যা তাদের ভবিষ্যতে সফলভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।




