অভাবের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে অদম্য মেধাবীদের সাফল্যের গল্প উঠে এসেছে প্রথম আলোর একটি বিশেষ আয়োজনের ষষ্ঠ পর্বে। কক্সবাজার, রাজবাড়ী, গাইবান্ধা ও ফরিদপুরের চার শিক্ষার্থী চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তবে এই সাফল্যের আনন্দের পাশাপাশি এখন তাদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় করার উপায়।
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং উচ্চবিদ্যালয় থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছে মো. রিফাত। দিনমজুর বাবার একমাত্র ভরসা ছিল ১০ হাজার টাকায় কেনা একটি গাভি, যা পরে চারটি গরুতে পরিণত হয়। স্কুল শেষে বন্ধুরা যখন মাঠে খেলাধুলা করত, রিফাত তখন গরুর ঘাস কাটত। পারিবারিক অভাবের কারণে অনেক সময় তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তা ছিল না, এমনকি পরীক্ষার হলে যাওয়ার যাতায়াত খরচ জোগাতে তার মাকে মুরগি বিক্রি করতে হয়েছিল। রিফাতের মেধার কথা বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বেতন মওকুফ করে এবং একজন শিক্ষক তাকে বিনা পারিশ্রমিকে বিজ্ঞান পড়াতেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে অথৈ আজাদ ওয়াজিহা। তার বাবা ফেরিঘাটের এক শ্রমিক, যার আয় অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং বর্তমানে সেই কাজও বন্ধ। অভাবের তাড়নায় অথৈ পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাত। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে এই মেধাবী ছাত্রী। তার মা পলি বেগম জানিয়েছেন, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য তারা আরও কষ্ট করতে প্রস্তুত।
গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ফাহাদ আল ফেরদৌস হাঁস পালন করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে। ভোরে পড়াশোনা শেষ করে হাঁসের যত্ন নেওয়া এবং ডিম বিক্রি করে খাতা-কলম কেনার মতো জীবন অতিবাহিত করেছে সে। বাবার আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না থাকায় চরম খাদ্যসংকটের মাঝেও সে জিপিএ-৫ অর্জন করে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়ে সে চিন্তিত।
অন্যদিকে, ফরিদপুর সদরের ডোমরাকান্দি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সিথী সাহা। ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসকের সাদা গাউন পরে অসহায় মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখে আসা সিথীর পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। মুদি ব্যবসায়ী বাবার সামান্য আয়ে তাকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দত্ত। কলেজের পড়াশোনা এবং পরবর্তী সময়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির বিপুল ব্যয়ভার কীভাবে বহন করা হবে, তা নিয়ে এখন গভীর দুশ্চিন্তায় তার পরিবার।




