বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ততা, অনিদ্রা এবং পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই মানসিক ক্লান্তি দূর করার ক্ষেত্রে ডার্ক চকলেট একটি চমকপ্রদ ও কার্যকর উপাদান হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পুষ্টিবিজ্ঞানী ও গবেষকগণ। তাঁদের মতে, ডার্ক চকলেটের উচ্চ কোকোয়া উপাদান শরীরে এমন কিছু জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়, যা দ্রুত মন ভালো করতে এবং দুশ্চিন্তার মাত্রা কমাতে সহায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব প্রোটিওম রিসার্চ’-এ প্রকাশিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই বিষয়ের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে ডার্ক চকলেট সেবন করলে মানবদেহে কর্টিসল এবং ক্যাটেকোলামিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পায়। এই গবেষণার বিষয়ে কগন্যাসিটি ডটকো ডটইউকে-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সুইজারল্যান্ডের নেসলে রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী ড. সুনীল কোছার জানান, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ডার্ক চকলেট খেলে উচ্চ মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিদের অন্ত্রের কার্যকলাপে এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা সরাসরি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্থ (এনআইএইচ)’-এর পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, ডার্ক চকলেটে বিদ্যমান পলিফেনল এবং উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ সচল রাখতে এবং প্রদাহ দূর করতে কার্যকর। এর পাশাপাশি এতে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামক নিউরোট্রান্সমিটারের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা মানুষের মনে সুখের অনুভূতি তৈরি করে এবং দুশ্চিন্তার নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে দেয়। এছাড়া পাবমেড সেন্ট্রাল (পিএমসি)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক চকলেট গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লালা গ্রন্থির গ্লুকোকর্টিকয়েড বা কর্টিসলের মাত্রায় বড় ধরনের পতন ঘটে, যা উদ্বেগ কমানোর একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
তবে সব ধরনের চকলেট মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর নয় বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের ক্লিনিক্যালএডুকেশন ডটঅর্গ-এর চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, কেবল সেই চকলেটই সুফল দেয় যাতে কোকোয়ার পরিমাণ কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি থাকে। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৪০ গ্রামের মতো (প্রায় এক থেকে দেড় আউন্স) ডার্ক চকলেট খাওয়া শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখা এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য যথেষ্ট। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সাদা বা মিল্ক চকলেট খেলে রক্তে শর্করার পরিবর্তন হতে পারে, যা উল্টো শক্তির ঘাটতি তৈরি করে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনধারার অংশ হিসেবেই ডার্ক চকলেট খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




