নারী উদ্যোক্তা, কারুশিল্পী এবং সৃজনশীল নারীদের মেধা ও উদ্যোগ প্রদর্শনের একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরায় ফিরে আসছে ‘ওয়াও (W.O.W– Women of Worth and Wonder) মার্কেট’। প্রথম আসরের ব্যাপক সাফল্যের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের ২৫তম তলার বলরুমে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলবে এই দিনব্যাপী মেলা।

এবারের আয়োজনে মোট ৩০টি স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ জন নারী উদ্যোক্তা তাদের সৃজনশীল পণ্য ও কারুকার্য প্রদর্শন করবেন। মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের তালিকায় থাকবে হাতে বোনা ও তৈরি পোশাক, নারকেলের ছোবড়া এবং পাটজাত পণ্য, বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং ঘরে তৈরি খাদ্যসামগ্রী। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেনে বৌ, অরাম বাংলাদেশ, বক্স অব অর্নামেন্টস এবং ডিমার্ট। গতবারের প্রথম আসরে প্রায় ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ছয় হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী মেলাটি ভিজিট করেছিলেন। ফলে উদ্যোক্তারা নতুন ক্রেতা এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ পেয়েছিলেন।

এবারের আয়োজনের একটি বিশেষ দিক হলো এর সামাজিক দায়বদ্ধতা বা চ্যারিটি অংশ। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা স্টল ভাড়ির জন্য তিন হাজার টাকা প্রদান করবেন, যার সম্পূর্ণ অর্থ অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ‘মজার স্কুল’-এ দেওয়া হবে। তবে স্টল থেকে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার কাছেই থাকবে। এই মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে অ্যাকশনএইড এবং অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনও এবারের আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের ‘গিভিং ফর গুড মান্থ’ কর্মসূচির আওতায় এই মেলাটি আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রথম আসরে অংশ নেওয়া বরিশালের উদ্যোক্তা শাহানা আক্তার জানান, পাট ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্যের মাধ্যমে তিনি ক্রেতাদের প্রশংসা পেয়েছেন, যা তাকে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, ডিমার্টের কানিজ ফাতেমা মনে করেন, এ ধরনের সুযোগ নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক করে এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান নিশ্চিত করে।

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের মহাব্যবস্থাপক কার্থি ভিকে বলেন, নারীদের সঠিক মঞ্চ প্রদান করা হলে তারা তাদের সৃজনশীলতাকে সফল ব্যবসায়িক রূপ দিতে পারেন। সামাজিক কল্যাণের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজনটি আরও শক্তিশালী উদ্দেশ্য নিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পেশাজীবী, পরিবার এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেলাটি আরও জমজমাট হবে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হবে নিজেদের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।