বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং বাহরাইন—এই চারটি দেশে কর্মী প্রেরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রবাসী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি নতুন নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরেই সমস্যাটি ক্রমশ প্রকট আকার ধারণ করছে।

তবে সম্প্রতি কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে মালয়েশিয়ার দিক থেকে। বিএনপি সরকার দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণার পরও এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো কর্মী পাঠানো শুরু হয়নি। ফলে ঘোষণাটি কাগজে-কলমে থাকছে, বাস্তবে শ্রমিকদের জন্য গন্তব্য উন্মুক্ত হয়নি।

অন্যদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত। ইউরোপীয় শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী যেতে পারছেন না, যা এই খাতের আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতে কাজের জন্য যাওয়ার আগ্রহও দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রতিকূল কাজের পরিবেশের কারণে অনেক সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মী এসব গন্তব্য এড়িয়ে চলছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলায় নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারগুলো পুনরায় চালু করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তবে আপাতত বন্ধ শ্রমবাজারগুলো খোলার কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই বলেই পর্যবেক্ষকদের অভিমত।