সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনে ব্যাপক গতি লক্ষ্য করা গেছে। সাপ্তাহিক বাজার প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ কার্যদিবসে এই খাতের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০২ কোটি টাকায় — যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। খাতটির এমন উল্লেখযোগ্য উত্থান ঢাকার বাজারে সামগ্রিক লেনদেনের চিত্রকেই বদলে দিয়েছে।

বস্ত্র খাতের এই বাড়তি লেনদেনের মূল চালিকাশক্তি ছিল কয়েকটি কোম্পানি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সায়হাম টেক্সটাইলের — দৈনিক গড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে কোম্পানিটির। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ২৬ কোটি টাকা, আর তৃতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের লেনদেনও প্রায় একই পর্যায়ে — ২৬ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে থাকা সায়হাম কটনের দৈনিক গড় লেনদেন ২৩ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। ফলে গত সপ্তাহের লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে চারটিই ছিল বস্ত্র খাতের, বাকি একটি ছিল আর্থিক খাতের আইপিডিসি।

বস্ত্র খাতের এই গতি পুরো বাজারেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬০৯ কোটি টাকায়, অথচ এর আগের সপ্তাহে এই পরিমাণ ছিল ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৭ কোটি টাকা বা সাড়ে ৬ শতাংশের কিছু বেশি। তবে এত বড় লেনদেনের পরেও সূচকে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়নি। সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে মাত্র ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬২ পয়েন্টে। সূচকের এই স্থবিরতার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, লেনদেন হওয়া শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা ছিল প্রায় সমান — ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৭০টির।

বাজারসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সূচক না বাড়লেও লেনদেনের এই প্রবৃদ্ধি বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে এক খাত থেকে টাকা তুলে অন্য খাতে স্থানান্তর করছেন। বিশেষ করে যেসব খাত সূচকে বড় প্রভাব ফেলে, সেসব খাত থেকে অর্থ সরে যাচ্ছে সূচকে কম প্রভাব রাখে এমন খাতে। ঢাকার বাজারে সূচক প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যাংক খাত, কিন্তু গত সপ্তাহে এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়ভাবে কম। ফলে ব্যাংক খাতের দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের প্রায় ৫৭ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি টাকায় — এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৬ কোটি টাকা বা ৯ শতাংশের বেশি পতন। বিনিয়োগকারীদের এই খাত পরিবর্তনের প্রবণতাই মূলত বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।