সুইডেনের বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম (H&M)-এর একটি ফ্যাশন শো চলাকালীন লন্ডনের অলিম্পিয়া হলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মডেলদের হাঁটার সময় তিনজন প্রতিবাদকারী হঠাৎ রানওয়েতে প্রবেশ করে মডেলদের পথ আগলে দাঁড়ান। হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পোশাক শিল্পে ভেড়ার পশম ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা জানান। জানা গেছে, প্রতিবাদকারী তিনজনই আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা (PETA)-এর কর্মী। ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাশন জগতে পশুর চামড়া, পশম এবং উলসহ যেকোনো প্রাণিজ উপকরণের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচার চালিয়ে আসছে।

পেটা কর্মীদের এই আকস্মিক বাধা সত্ত্বেও এইচঅ্যান্ডএম তাদের নির্ধারিত আয়োজন চালিয়ে যায়। আলোকচিত্রী নিক নাইটের সাথে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই নতুন সংগ্রহে তিনটি ভিন্ন থিম উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহাসিক রোমান্টিক আবহ, চলচ্চিত্রের দ্বারা অনুপ্রাণিত পুরুষদের পোশাক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সাহায্যে তৈরি বিশেষ দৃশ্যপট। ফ্যাশন বিশ্লেষকদের কাছে এই পোশাকগুলো প্রশংসা পেলেও, পুরো অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পেটা কর্মীদের এই প্রতিবাদ।

উল্লেখ্য যে, এর এক সপ্তাহ আগেই নিউইয়র্কে ফ্যাশন ব্র্যান্ড কস (COS)-এর একটি শোয়েও পেটার কর্মীরা একইভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্কের সেই ঘটনায় পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সাথে ফ্যাশন ডিজাইন অব আমেরিকার (CFD) প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টিভেন কোলবের শারীরিক ধস্তাধস্তি হয়, যা ইন্টারনেটে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং কোলবের পদত্যাগের সম্ভাবনা তৈরি করে।

নিউইয়র্কের সেই অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে লন্ডনের শোতে এইচঅ্যান্ডএম অত্যন্ত সংযত ও কৌশলী ভূমিকা পালন করে। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রতিবাদকারীদের সাথে কোনো ধরনের সংঘাত না করে তাঁদের কথা শেষ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। এরপর অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁদের রানওয়ে থেকে সরিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো সময়টি এইচঅ্যান্ডএম-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সামনের সারিতে বসে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সব বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত শো-টি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।