বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃজনশীল চিন্তাধারার সঙ্গে ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব এবং ফরাসি সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের ‘অডিটোরিয়াম নুভেল ভাগ’-এ 'রবীন্দ্রনাথের ফরাসি সংযোগ - রবীন্দ্রসংগীতের এক সন্ধ্যা' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। গান ও আলোচনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত এই সন্ধ্যায় কবিগুরুর বিশ্বজনীন শিল্পভাবনার বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানের সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী সঞ্চিতা রাখী। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের বিভিন্ন আঙ্গিক শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপিত হয়। গানের মধ্যবর্তী সময়ে আলোচনা করা হয় ফ্রান্সের প্রথিতযশা শিল্পী ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ এবং তাঁর শিল্পকর্মে ইউরোপীয় প্রভাবের নানা গল্প। সংগীত পরিবেশনায় সঞ্চিতা রাখীকে সহযোগিতা করেন কিবোর্ডে কৌশিক আহমেদ অন্তর, তবলায় গৌতম কুমার সরকার, গিটারে মো. নাসির উদ্দিন এবং এসরাজে আশিকুল আবির।

এই বিশেষ সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শস্ত্রোর কবিতা আবৃত্তি। তিনি রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’র ফরাসি অনুবাদ থেকে নির্বাচিত কবিতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্বকবির ফ্রান্স সফর এবং ফরাসি সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন তিনি। ফ্রাঁসোয়া শস্ত্রোর মতে, কয়েক দশক ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে সম্পর্ক ছিল, তা তাঁর শিল্পী হিসেবে পূর্ণতা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু প্যারিসে অবস্থানকালে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতা তাঁর বহুমাত্রিক বিকাশে সহায়ক হয়েছিল। এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের স্মৃতিকেই উদযাপনের লক্ষ্য ছিল এই আয়োজন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও আলোচনায় অংশ নেন ধ্রুব জ্যোতি।