দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ৫৯ জনের একটি বহর নিয়ে সিলেটে ভ্রমণে যান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘হরিকেল অভিযাত্রা’। যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। এত বড় দলের জন্য একসাথে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। প্রথমে দুটি বগি বুক করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর, তারা বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইনে টিকিট কাটার সিদ্ধান্ত নেন। ২০ জন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সবার টিকিট কাটা সম্ভব হলেও, তারা ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে ছড়িয়ে পড়েন। তবে এই প্রাথমিক ঝামেলা তাদের ভ্রমণের উৎসাহ কমিয়ে দেয়নি। ২ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে উপবন এক্সপ্রেসে চড়ে তারা শ্রীহট্টের পথে রওনা হন এবং পরদিন সকাল ৮টায় সিলেট স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে দরগাগেটের পাশে একটি হোটেলে তারা অবস্থান নেন।

ভ্রমণের প্রথম দিনে তাদের প্রথম গন্তব্য ছিল উপমহাদেশের প্রথম চা-বাগান হিসেবে পরিচিত মালনীছড়া। বৃষ্টির আবহে সবুজ চা-বাগানের দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে। এরপর তারা রওনা হন রাতারগুল জলাবনের দিকে। নৌকায় করে জলমগ্ন বনের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রথম দিনের শেষ গন্তব্য ছিল কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত সাদাপাথর। ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারা, সাদা পাথর এবং মেঘালয়ের পাহাড়ের দৃশ্য দীর্ঘ পথের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়।

দ্বিতীয় দিনে কিছুটা দেরি করে তারা লালাখালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। জৈন্তাপুর উপজেলার এই এলাকার নীল-সবুজ পানি এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের আকর্ষণ করে। পাশাপাশি স্থানীয় পাহাড়ি জনপদের জীবনযাত্রা ও ঘরবাড়ি দেখার সুযোগ হয় তাদের। এরপর তারা জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর তীরে পৌঁছান, যেখানে স্বচ্ছ পানি ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে তারা মায়াবী ঝরনায় গেলেও সেখানে প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা পাননি এবং ভিড়ের কারণে দ্রুত ফিরতে হয়। তালিকার শেষ গন্তব্য ‘আগুন পাহাড়’ দেখার ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে তা অপূর্ণ থেকে যায়।

রাত ১০টায় হোটেলে ফিরে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে রাত ১১টার ফিরতি ট্রেনে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই দুই দিনের ভ্রমণে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেও, একসঙ্গে পথচলা, আড্ডা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরি করেছে। গন্তব্যের চেয়েও এই যাত্রার পারস্পরিক বন্ধন এবং মুহূর্তগুলোই তাদের কাছে বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে।