প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেও কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার লড়াই চলতেই থাকে। সিটিগ্রুপের সিইও জেন ফ্রেজার জানান, তিনি তার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী এবং বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রাক্তন প্রধান ওয়ারেন বাফেটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মেনে চলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে স্ট্যানফোর্ড গ্রাজুয়েট স্কুল অফ বিজনেসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফ্রেজার এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

বাফেটের দেওয়া প্রথম এবং প্রধান শিক্ষাটি ছিল—কখনোই রাগের মাথায় কোনো ইমেলের উত্তর দেওয়া যাবে না। ফ্রেজার স্মরণ করেন, বাফেট তাকে বলেছিলেন যে কাউকে খারাপ সম্বোধন করার জন্য পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ, কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, বাফেটের কৌশল ছিল সমালোচনার ক্ষেত্রে বিভাগীয় বা সাধারণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রশংসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা। ফ্রেজারের মতে, যখন কোনো ভুল হয়, তখন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করলে তা ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এই দর্শনটি বাস্তব জীবনে কতটা কার্যকর, তার উদাহরণ হিসেবে ফ্রেজার একজন অ্যাক্টিভিস্ট ইনভেস্টরের চাপের কথা বলেন। শুরুতে তিনি ওই বিনিয়োগকারীর প্রতি সহমর্মী হতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং বেশ রুক্ষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে বিনিয়োগকারীর অবস্থান থেকে বিষয়টি দেখার পর তিনি একটি সফল সমাধান খুঁজে পান। ফ্রেজার বিশ্বাস করেন, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা বা সহমর্মিতা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করে, কারণ খুব কম মানুষই অন্যের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন। তার মতে, সহজ কথা হলো—কারো প্রতি খারাপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকা।

জেন ফ্রেজারের পেশাদার জীবন শুরু হয় ১৯৮৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর একটি মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যানালিস্ট হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করেন এবং দীর্ঘ ১০ বছর ম্যাককিনসিতে কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিটিগ্রুপে যোগ দেওয়া ফ্রেজার ২০২১ সালে সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যার ফলে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের কোনো বড় ব্যাংকের প্রথম নারী প্রধান হন।

সিটিগ্রুপের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফ্রেজার প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে 'টক্সিক' বা বিষাক্ত মানসিকতার কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একটি খারাপ সংস্কৃতিতে ভালো মানুষগুলো নিজেদের গুটিয়ে নেয়, কিন্তু একজন নেতিবাচক মানসিকতার ব্যক্তি পুরো দলের শক্তি ক্ষয় করে দেয়।

বর্তমান সময়ে জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই আচরণগত দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার অভাবের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ কোম্পানি তাদের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ কর্মীদের ছাঁটাই করেছে। আমাজন সিইও অ্যান্ডি জাসি এবং ওয়ার্কডে-র প্রাক্তন সিইও কার্ল এশেনবাখও মনে করেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে বিশেষ করে ২০-এর দশকে একজন কর্মীর মনোভাব বা অ্যাটিটিউডই তার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং জীবনের উচ্চতা নির্ধারণ করে দেয়।