যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, কানসাস এবং ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যগুলোতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (ICE) সাম্প্রতিক কঠোর অভিযান মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে। টেক্সাস ক্যাটল ফিডার্স অ্যাসোসিয়েশন, ওকলাহোমা ক্যাটলমেন’স অ্যাসোসিয়েশন এবং কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশনের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আইস-এর এই তৎপরতার কারণে হাজার হাজার গবাদি পশুর শিপমেন্টে বিলম্ব ঘটছে। এর প্রভাব ফিডলট, ডেইরি প্রসেসর, দানাশস্য কোম্পানি এবং পরিবহন কেন্দ্রগুলোর ওপর মারাত্মকভাবে পড়েছে।

কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশনের যোগাযোগ বিভাগের সহ-সভাপতি স্কারলেট ম্যাবিঙ্গার জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধির পর থেকে অনেক সদস্যের ব্যবসায় শ্রমিকদের অনুপস্থিতির হার বেড়েছে। তিনি আরও জানান, ডজ সিটি, লিবারেল এবং গার্ডেন সিটির মতো শহরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার গবাদি পশু প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে বর্তমানে কিছু প্ল্যান্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং পশুদের পুনরায় ফিডলটে পাঠাতে হয়েছে। এর ফলে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ডজ সিটির কমিউনিটি অর্গানাইজার অ্যামি সোবেরানেস জানান, অনেক পরিবার এখন আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারছে না এবং অনেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শিশুর বাবা-মা এই অভিযানে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় কমিউনিটিতে চরম ট্রমা ও কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে।

মজার বিষয় হলো, যে কাউন্টিগুলোতে এই অভিযান চলছে, সেখানে গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন ছিল (৬৫ শতাংশের বেশি)। সাধারণত ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমর্থক হলেও, বর্তমান অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে রিপাবলিকান রাজনীতিবিদরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল এবং জেরি মোরান এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফেডারেল প্রশাসনকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর মোরান জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মালিন তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পরোয়ানাগুলো শুধুমাত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে যে তারা কেবল 'ভয়াবহ অপরাধীদের' লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও ছিল না। মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যক্তির অপরাধের রেকর্ড ছিল।

বিগত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর সংখ্যা গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় গরুর মাংসের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক কমিয়ে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে দাম কমানোর চেষ্টা করলেও, এই ধরনের অভিযান উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। কানসাস লাইভস্টক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভোক্তাদের জন্য মাংসের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। তারা ফেডারেল কর্মকর্তাদের আরও স্বচ্ছতা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের অনুরোধ জানিয়েছেন।