যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হলেও, প্রকৃত আর্থিক সংকট আরও অনেক গভীর। সাম্প্রতিক সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ার ট্রাস্টিজ রিপোর্ট ও ২০২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির মোট ফেডারেল দায় এবং অনুদানহীন সামাজিক বীমা বাধ্যবাধকতার পরিমাণ অন্তত ১৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক বছরে এই দায়ের পরিমাণ প্রায় ১১ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে এই অংকের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বার্ষিক ঘাটতি, সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের অনুদানহীন বাধ্যবাধকতার বৃদ্ধি এবং ফেডারেল বেসামরিক ও সামরিক পেনশনের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান দায়। আর্থিক এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে একে দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) সাথে তুলনা করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ঋণ জিডিপির ১২৪ শতাংশ, যা ২০০০ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারের মোট দায় জিডিপির ৪৫২ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে ২০০০ সালে এটি ছিল ১৯৯ শতাংশ।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (CBO) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩০ বছরে জিডিপির বিপরীতে মোট ফেডারেল ঋণের হার ১২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৯০ শতাংশ হতে পারে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ ঋণের সুদের বোঝা সাধারণ মানুষের করের টাকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ অর্থবছরে সংগৃহীত ব্যক্তিগত আয়করের ৩৬.৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে শুধুমাত্র জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে। অর্থাৎ, আমেরিকানদের দেওয়া করের এক তৃতীয়াংশ অতীতের সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিবিও-র প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে এই হার বেড়ে ৫০.৬ শতাংশ হতে পারে। এর অর্থ হলো, করদাতাদের অর্থের অর্ধেকের বেশি অংশ সরকারি সেবা বা পণ্য উৎপাদনে ব্যয় না হয়ে শুধুমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এখনই তার আর্থিক নীতি পরিবর্তন না করে, তবে এর প্রভাব পড়বে জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর। এই সংকট মোকাবিলায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বর্তমান কংগ্রেসের 'ল্যাম-ডাক' সেশনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিপক্ষীয় 'ফিসকাল কমিশন অ্যাক্ট' (H.R. 3289) পাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিলটি পাস হলে ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় এবং রাজস্ব সংক্রান্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। এই বিলটি কার্যকর করতে এটিকে নতুন কন্টিনিউয়িং রেজোলিউশনের সাথে যুক্ত করা অথবা ঋণসীমা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি স্পিকার জনসন এবং চেয়ারম্যান অ্যারিংটনের মতো নেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে।