যুক্তরাষ্ট্রে স্থাপিত ফ্লক প্রতিষ্ঠানের এআই-চালিত নজরদারি ক্যামেরাগুলো সম্প্রতি দেশজুড়ে নাশকতার শিকার হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো যে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে—এমন দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। তবে স্থানীয় অনেক নাগরিক এই ক্রমবর্ধমান নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাঙচুর চালাচ্ছেন।
ফ্লক নামের প্রযুক্তি কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরেই বলছে, তাদের ক্যামেরা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করেন। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন শহরে এই ক্যামেরাগুলোকে লক্ষ্য করে নাশকতার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবাদকারীদের মতে, নজরদারির এই জাল যত বিস্তৃত হচ্ছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ততই হুমকির মুখে পড়ছে।
এআই প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই ক্যামেরাগুলো রাস্তাঘাট, জনবহুল এলাকা এবং বাণিজ্যিক স্থানে বসানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি—অপরাধী চেনা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দ্রুত তদন্তে সহায়তা করা—সবই এই ক্যামেরার মাধ্যমে সম্ভব। অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সরকার বা কর্পোরেট সংস্থার হাতে অতিরিক্ত নজরদারির ক্ষমতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নাশকতার ঘটনাগুলো বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এসব ঘটনায় তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কেউ কেউ এটিকে নাগরিক অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি সংগঠিত প্রতিরোধের অংশ।
ফ্লক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের সম্পদ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করবে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নিরাপত্তার প্রয়োজনে কতটা নজরদারি গ্রহণযোগ্য? প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই দ্বন্দ্বে সমাধান কী হবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।



