সম্প্রতি নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর একাধিক শিশুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, শিশুরা বন্যায় মা-বাবা হারিয়ে পথে ঘুরছে বা জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, এসব ভিডিওর বেশিরভাগই পুরোনো বা অন্য দেশের ঘটনা।
প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, নীল টি-শার্ট পরা এক কিশোর তার পিঠে বাঁধা কান্নারত শিশুকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটছে। ধুলো-ময়লায় মাখামাখি শিশুটির চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। এই ভিডিওটি নেপালের বন্যার সাথে জড়িয়ে ফেসবুক ও এক্সে ছড়িয়ে পড়ে। এক্স অ্যাকাউন্ট 'জিত' থেকে পোস্ট করা ভিডিওটি ১৬ লাখেরও বেশি বার দেখা যায়। ক্যাপশনে বলা হয়, ছোট্ট বালক তার ছোট বোনকে আগলে মা-বাবার খোঁজ করছে। তবে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের হা জাং প্রদেশের। ইনস্টাগ্রামে 'থিন দুয়েন' নামের একটি অ্যাকাউন্টে গত ২৯ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে নেপাল বা বন্যার কোনো উল্লেখ নেই। বরং প্রচণ্ড রোদে ছোট ছেলেটি তার ছোট ভাই বা বোনকে বহন করছে বলে ক্যাপশনে লেখা। ভিডিওটির নির্মাতা নিজেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানকে নিশ্চিত করেছেন যে এটি ভিয়েতনামের হা জাংয়ে ধারণ করা হয়েছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গলের ভেতর একটি পাথরের কাছে বসে আছে ছোট একটি শিশু। আশপাশে উদ্ধারকর্মীরা জড়ো হয়েছে। দাবি করা হয়, নেপালের বন্যার তিন দিন পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনাটি নেপালের পূর্ব নওয়ালপরাসি জেলার গেইনডাকোট পৌরসভার ভাগর এলাকার। আড়াই বছর বয়সী সিভান তামাং নামের ওই শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর টানা দুই রাত জঙ্গলে খোঁজ চালিয়ে ২০ আগস্ট উদ্ধার করা হয়। অথচ নেপালে বন্যা শুরু হয় ২৬ আগস্ট। অর্থাৎ উদ্ধারের ঘটনা বন্যার আগের। ফলে সময়ের গরমিল স্পষ্ট।
তৃতীয় ভিডিওতে একটি গর্তের ভেতর আটকে পড়া শিশুকে জুস পান করানো হচ্ছে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ভিডিওটি নেপালের বন্যার সাথে যুক্ত করে ছড়ালেও যাচাইয়ে দেখা যায়, এটি ভারতের পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের ঘটনা। গত ১৫ মে চার বছর বয়সী গুরকরণ সিং নামে এক শিশু খেলতে গিয়ে নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমও এই ভিডিওগুলো নিয়ে আবেগধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে কোনোটি নেপালের বন্যার সাথে সম্পর্কিত নয় বলে তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে। ভারতের কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও ভিডিওগুলো নেপালের বন্যার ঘটনা হিসেবে প্রচারিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নেপালে প্রকৃতই শিশু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ আগস্ট রাসুয়া জেলায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকা ছয় বছর বয়সী মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটিই একমাত্র সত্য ঘটনা যা নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।




