জাপানে মাত্র ১৫ দিনের ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলেন এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক। কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের সফর শেষ পর্যন্ত ২৬ বছর ধরে টেনে নিয়ে যান তিনি। অবশেষে ৭২ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই ব্যক্তি। শিজুওকা প্রিফেকচারাল পুলিশের বরাত দিয়ে জাপান টাইমস জানিয়েছে, গত জুনে একটি তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের ভাইয়ের পাসপোর্ট দেখিয়ে জাপানে ঢোকেন তিনি। তখন তাঁর কাছে ছিল মাত্র ১৫ দিনের পর্যটন ভিসা। জাপানে তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতনের কাজ পাওয়ার আশায় দেশটিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর থেকে আর কখনো জাপান ত্যাগ করেননি। বর্তমানে শিজুওকা প্রিফেকচারের ইয়াইযু শহরে বসবাস করছিলেন এই ব্যক্তি।
পুলিশের ধারণা, ১৯৯৩ সাল থেকেই তিনি জাপানে অবস্থান করছেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, এতগুলো বছর বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরের কাজ করে জীবনধারণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৩ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাপানে থাকা তখনকার আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল না। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত অভিবাসন আইন কার্যকর হওয়ার পর এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ২০০০ সাল থেকে অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এনেছে, যা তিনি স্বীকারও করেছেন।
জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৪৮৮ জন। তবে এই সংখ্যা ১৯৯৩ সালের তুলনায় অনেক কম। সে বছর জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৬, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।




