জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং জ্যেষ্ঠ নেতা সামান্তা শারমিন দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে এবং দলীয় গ্রুপে তার পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক মুখপাত্র সামান্তা শারমিন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
দল ছাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য বা 'লাইন' স্পষ্ট না থাকায় দলটি ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলটি বর্তমানে বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের সহায়ক ও প্রতিক্রিয়ামূলক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক দলের 'লেজুড়' হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রবণতা দলটির নিজস্ব নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সামান্তা আরও উল্লেখ করেন যে, এনসিপির বর্তমান ভূমিকা নারীবিরোধী এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরীণ কাউন্সিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পুনর্গঠিত কমিটিতে তার পদাবনতির দুই সপ্তাহ পর তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বারবার সতর্ক করা এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও এনসিপি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে আগ্রহী হয়নি, ফলে পদত্যাগ করা ছাড়া তার আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব শুরু করে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি। তবে গত ডিসেম্বরে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দলীয় কার্যক্রমে তিনি অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সামান্তা শারমিন জানান, তিনি এমন এক রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশা করেন যা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি করবে না। বরং গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। তার মতে, তরুণদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু দল গঠন করা নয়, বরং এমন একটি ঐক্য তৈরি করা যেখানে ভিন্নমত থাকবে কিন্তু বিভাজন থাকবে না এবং জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনো বিদেশি শক্তির অবস্থান থাকবে না। এই নতুন গণতান্ত্রিক প্রকল্প এগিয়ে নিতে তিনি সমমনা ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় এবং কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।




