ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পাস প্রদানের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে তিনি মাত্র দেশে ফিরেছেন, তাই আবেদন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য তার জানা নেই। তবে পুরো বিষয়টি তার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনাকে একজন ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ ও ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি কঠোর ভাষায় প্রশ্ন করেন, তিনি কি তার শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে? তার মতে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া একজন স্বৈরাচারকে সাধারণ বাণিজ্যিক পর্যটকের মতো বিবেচনা করে পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না, বরং তাদের হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সক্রিয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (Extradition Treaty) কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য এই আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যদিও নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে বেশ কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হলেও দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি; ভারত কেবল আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথা বলে আসছে। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফাঁসির রায় থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার তাকে হস্তান্তর চায় এবং বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।