হোটেলে থাকার সময় শেষ হলে ব্যাগ গুছিয়ে বিল পরিশোধের পর দ্রুত বেরিয়ে পড়ার প্রবণতা অনেকেরই থাকে। কিন্তু দরজার বাইরে পা রাখার আগে আরও কিছুক্ষণ সময় নিয়ে রুমটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে পরবর্তীতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো যায় এবং হোটেলের কর্মীদের কাজও সহজ হয়।

প্রথমেই ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অতিরিক্ত বাক্স বা প্যাকেটগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখুন। হোটেলের ডাস্টবিন সাধারণত ছোট হওয়ায় সব বর্জ্য এর ভেতরে না-ও ধরতে পারে। তাই খাবারের প্যাকেট বা অন্য বাক্সগুলো ডাস্টবিনের পাশে সুশৃঙ্খলভাবে রাখলে ঘর পরিষ্কার করা সহজ হয়।

যদি সঙ্গে শিশু থাকে এবং নিরাপত্তার কারণে বিছানা দেওয়ালের দিকে সরানো হয়ে থাকে, তবে বের হওয়ার আগে সেটি আগের অবস্থানে ফিরিয়ে রাখুন। একইভাবে অন্য কোনো আসবাবপত্র সরিয়ে থাকলে তা যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হোটেলকর্মীদের প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করে।

বিছানা ও ড্রেসারের নিচের অংশে একবার ভালো করে দেখে নিন। বিশেষ করে শিশুদের খেলনা, প্রিয় পুতুল বা অন্য কোনো ছোট জিনিস সেখানে থেকে যেতে পারে। পরে গাড়িতে ওঠার পর মনে পড়লে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। এছাড়া বিছানার চাদর ও কমফোর্টার সরিয়ে ম্যাট্রেস এবং বক্স স্প্রিংয়ের মাঝখানেও একবার দেখুন। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস লুকিয়ে রাখার জন্য এই স্থানটি ব্যবহার করেন, তাই সেখানে কিছু পড়ে আছে কি না যাচাই করা জরুরি।

বিছানার চাদর সরিয়ে দেখুন কোনো জিনিস পড়ে আছে কি না। হোটেলকর্মীদের সুবিধার্থে চাদর খুলে রাখার ইচ্ছা থাকলে কমফোর্টারটি মেঝেতে না ফেলে চেয়ার বা আলমারিতে রাখুন। চাদর ও কমফোর্টার একসঙ্গে পেঁচিয়ে রাখা এড়িয়ে চলুন।

ব্যবহৃত তোয়ালেগুলো বাথটাবে বা নির্দিষ্ট একটি স্থানে একসাথে রাখুন। ভেজা তোয়ালের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সুবিধাজনক। এতে পরিষ্কারকর্মীকে ঘরের বিভিন্ন কোণ থেকে তোয়ালে সংগ্রহ করতে হয় না। একই সঙ্গে, রক্তের দাগ লাগা তোয়ালে বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকলে সেগুলো আলাদা করে জানিয়ে দিন বা নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা এ ধরনের সরঞ্জাম রুমে ফেলে যাওয়া কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ফ্রিজে রাখা খাবার বা পানীয়ের দিকে নজর দিন। যেগুলো সঙ্গে নেওয়ার মতো, সেগুলো নিয়ে নিন; বাকিগুলো বিনে ফেলে দিন। ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। ওষুধ ভুলে ফেলে আসা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

হোটেল থেকে ফেরার সময় সবচেয়ে বেশি ভুলে আসা জিনিসগুলোর একটি হলো চার্জার। তাই বের হওয়ার আগে বিছানার পাশে, টেবিলের ওপর, দেওয়ালের সকেটসহ রুমের সব জায়গায় একবার চোখ বুলিয়ে নিন। ফোনের চার্জার ফেলে এলে বাড়ি ফেরার পরই তার অভাব টের পাওয়া যায়।

হোটেলের রুম পরিষ্কারকর্মীরা নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁদের বেতন সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক হওয়ায় টিপ দেওয়ার বিষয়টি রেস্তোরাঁর পরিবেশনকর্মী বা বেলহপদের মতো নয়। তবু ভালো সেবা পেলে কিছু টিপ দেওয়া প্রশংসনীয়। কতটা টিপ দেবেন, তা নির্ভর করে হোটেলের মান, আপনি কত রাত ছিলেন, ঘরটি কতটা ব্যবহার করেছেন এবং অতিরিক্ত তোয়ালে বা সোফা-কাম-বেড ব্যবহারের ওপর।

পরদিন সকালে বের হওয়ার সময় অনেকেই একসাথে গাড়ির জন্য যোগাযোগ করেন। অপরিচিত শহরে থাকলে এতে অযথা সময় নষ্ট হতে পারে। তাই আগের রাতেই অভ্যর্থনা ডেস্কে ফোন করে পরদিন কখন বের হবেন, তা জানিয়ে গাড়ি প্রস্তুত রাখার অনুরোধ করুন। যেমন সকাল সাড়ে ৭টায় বের হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই জানিয়ে রাখলে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি পাওয়া সহজ হবে। এতে আপনার সময় বাঁচবে এবং কর্মীদেরও শেষ মুহূর্তে ছোটাছুটি করতে হবে না।

যদি হোটেল রুম, সেবা ও পরিবেশ ভালো লেগে থাকে এবং ভবিষ্যতে আবার ওই এলাকায় থাকার পরিকল্পনা থাকে, তবে বের হওয়ার আগে পরেরবারের জন্য বুকিংয়ের বিষয়ে কথা বলুন। হোটেলের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করলে অনলাইনের দামের পাশাপাশি অন্য কোনো সুবিধা বা আপগ্রেডের সুযোগও মিলতে পারে। তাই পছন্দের হোটেলে পরবর্তী থাকার পরিকল্পনাটি আগেই করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট