রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই আহ্বান জানান হেফাজতে ইসলামের আমির। ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী তাঁর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

হেফাজতের আমিরের অভিযোগ, ইসলাম, নবুয়ত ও শরিয়তের নানা বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন সাদ কান্ধলভী। পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন তিনি। দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিসহ আলেমরা তাঁকে সংশোধনের চেষ্টা করলেও তিনি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেননি বলে জানান বাবুনগরী।

তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র সাদ কান্ধলভীকে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজকেন্দ্রিক তাবলিগের একাংশ নিজেদের আমির হিসেবে মানে। এই প্রেক্ষাপটে হেফাজতের আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী যত দিন খালিস তওবা করে শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাঁকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিও ওঠে সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য, সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হেফাজতের আমিরের অভিযোগ, তাঁর অনুসারীরা তাবলিগের সাথি এবং মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রাণহানি ঘটিয়েছেন। এতে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করারও দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে সরকারের কাছে সাতটি দফা দাবি পেশ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করা; জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা; সাদপন্থীদের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া; ইজতেমা মাঠে তাঁদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা; বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালনা; কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চালানো এবং সাদ কান্ধলভীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারের আওতায় আনা।

হেফাজতের আমির আরও বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকেই ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। তাঁরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং বিদেশি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র করছেন বলে তাঁর অভিযোগ।

সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রাজধানীর উত্তরার জামিয়াতুন নূর আল কাসিমিয়ার অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান কাসেমী। এতে আরও বলা হয়, আলেমদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আলেমদের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর), হেফাজতের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুযে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি বশির উল্লাহ, দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতি জসিম উদ্দিন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি।