কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পার্সোনা ব্যবহার করে মানসিক সচেতনতা বা মাইন্ডফুলনেসের ধারণা অনুসন্ধানের এক নতুন পদ্ধতি সামনে এসেছে। এই পদ্ধতিতে ল্যাঞ্জেরিয়ান মাইন্ডফুলনেস স্কেল (এলএমএস) এবং ক্রিয়েটিভিটি ট্রায়াঙ্গল টাস্ককে একত্রিত করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে এআই-চালিত বিভিন্ন পার্সোনার মাধ্যমে, যারা টাস্কটি সম্পাদন করেছে এবং ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে এআই ইনসাইডার জানিয়েছে, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং মাইন্ডফুলনেসের ঐতিহ্যবাহী ধারণাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। ল্যাঞ্জেরিয়ান মাইন্ডফুলনেস স্কেলটি মূলত এলেন ল্যাঞ্জের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বর্তমান মুহূর্তের প্রতি মনোযোগ, নমনীয়তা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ক্ষমতা পরিমাপ করে। অন্যদিকে, ক্রিয়েটিভিটি ট্রায়াঙ্গল টাস্ক সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম।
এআই পার্সোনাগুলোকে এই দুটি পদ্ধতির সমন্বয়ে পরিচালিত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, এআই পার্সোনাগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য রয়েছে। কিছু পার্সোনা অত্যন্ত নমনীয় ও সৃজনশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, অন্যদিকে কিছু পার্সোনা কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেছে। এই পার্থক্য ল্যাঞ্জেরিয়ান মাইন্ডফুলনেসের বিভিন্ন মাত্রাকে প্রতিফলিত করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এআই ইনসাইডারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এআই পার্সোনা ব্যবহারের মাধ্যমে মাইন্ডফুলনেস পরীক্ষার সুযোগ অনেক বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের অংশগ্রহণে সময় ও খরচের সীমাবদ্ধতা থাকলেও এআই দিয়ে দ্রুত এবং বহুবার পরীক্ষা চালানো সম্ভব। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই-এর ফলাফলকে মানুষের অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবুও এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে মনোবিজ্ঞান ও জ্ঞানীয় বিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এর ফলাফল ইতোমধ্যে গবেষক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে। ল্যাঞ্জেরিয়ান মাইন্ডফুলনেস স্কেলের সাথে ক্রিয়েটিভিটি ট্রায়াঙ্গল টাস্কের এই সংমিশ্রণ এআই-চালিত মনোবিজ্ঞান গবেষণার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।




