প্রযুক্তিবিশ্বকে চমকে দিয়ে নিজেদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’ বাজারে এনেছে অ্যাপল। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত অ্যাপল পার্কে ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামক এক বিশেষ ইভেন্টের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাসের নেতৃত্বে আয়োজিত এটিই ছিল অ্যাপলের প্রথম বড় ধরনের ইভেন্ট।
নতুন আইফোন ডুও-এর নকশা অনেকটা পাসপোর্টের মতো, যা বইয়ের ন্যায় খুব সহজেই খোলা এবং বন্ধ করা যায়। এর সামনের অংশে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে, তবে ফোনটি পুরোপুরি মেলে ধরলে দেখা যায় ৭.৬ ইঞ্চির এক বিশাল স্ক্রিন। এই বড় স্ক্রিনটি মূলত গেমিং, সিনেমা দেখা কিংবা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, পুরোপুরি খোলা অবস্থায় এই মডেলটি হবে তাদের তৈরি এযাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা আইফোন। টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি এই ফোনটি স্টার হোয়াইট ও নাইট স্কাই—এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে। এছাড়া ফোনটি সম্পূর্ণ না খুলে অর্ধেক ভাঁজ করা অবস্থাতেও ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে। আইফোন ডুও-এর শুরুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার (প্রায় আড়াই লাখ টাকা)। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এর প্রি-অর্ডার এবং ২৩ অক্টোবর থেকে মূল বিক্রয় শুরু হবে। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর এটিকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে অ্যাপল স্যামসাংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকা ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে প্রবেশ করল।
ফোল্ডেবল ফোনের পাশাপাশি অ্যাপল বাজারে এনেছে ‘আইফোন ১৮ প্রো’ এবং ‘১৮ প্রো ম্যাক্স’। যদিও এর বাইরের ডিজাইন আগের ১৭ প্রো সিরিজের মতোই রাখা হয়েছে, তবে ভেতরে যুক্ত হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতির ‘এ২০ প্রো’ প্রসেসর। উন্নত সিপিইউ, জিপিইউ এবং নিউরাল ইঞ্জিনের ফলে এখন এআই-এর জটিল কাজ এবং গেমিং আরও সহজ হবে। ব্যাটারি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে; আইফোন ১৮ প্রো-তে ২৪ ঘণ্টা এবং ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত চার্জ থাকবে, যা আগের মডেলগুলোর তুলনায় দ্রুত চার্জ হবে। ক্যামেরার অ্যাপারচারে পরিবর্তনের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’ ফিচার, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ছবির ভিড়ে আসল ছবি শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এছাড়া ফোন গরম হওয়া রোধ করতে তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি আনা হয়েছে। নতুন এই মডেলগুলোতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো সিরির গলার আওয়াজ বদলে নিতে পারবেন। কালো, রুপালি, হালকা নীল ও বারগান্ডি—মোট চারটি রঙে পাওয়া যাবে এই সিরিজ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের ৬৫টির বেশি দেশে এর সরাসরি বিক্রি শুরু হবে।
একই অনুষ্ঠানে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, আল্ট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫-এর কথা জানানো হয়। তবে নতুন সিইও জন টার্নাসের জন্য চ্যালেঞ্জ কম নয়, কারণ বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। ইভেন্টের আগেই আইফোন ডুও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা না যাওয়ায় অ্যাপলের শেয়ারের দাম ১.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফোল্ডেবল ফোনের স্থায়িত্ব নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকায় অ্যাপল লাইভস্ট্রিমে দেখিয়েছে যে, এই ফোনগুলো প্রায় দুই লাখবার অনায়াস করে ভাঁজ করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালেই ‘পলিমার ভিশন’ নামক এক কোম্পানি ফোল্ডেবল ই-রিডার তৈরি করলেও ২০০৯ সালে তারা বন্ধ হয়ে যায়, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফোল্ডেবল ফোন এখনো তেমন বড় জায়গা করে নিতে পারেনি।




