প্রযুক্তি খাতে একটি বহুল আলোচিত সমস্যা হলো—ব্যবহারকারীর প্রয়োজনকে পেছনে রেখে অগ্রিম নির্মিত প্ল্যাটফর্মগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ব্লকচেইন-ভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ টিকতে পারেনি, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পের ৯৫ শতাংশই প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মূল কারণ, প্রযুক্তি যখন 'ব্যাকওয়ার্ড' পদ্ধতিতে—অর্থাৎ ব্যবহারকারীর চাহিদা যাচাই না করেই—তৈরি করা হয়, তখন তা বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে মর্টগেজ ব্রোকারেজ খাতের একটি উদাহরণ সামনে এসেছে। রকেট কোম্পানি তাদের ব্রোকারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে যে টুলস তৈরি করেছে, সেগুলো সাফল্য পেয়েছে। সেখানে বিকাশকারীরা আগে থেকে কোনো সমাধান চাপিয়ে দেয়নি; বরং ব্রোকারদের কাজের ধারা, প্রতিবন্ধকতা এবং চাহিদা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়েছে। ফলে টুলসগুলো ব্যবহারকারীর প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটিই প্রযুক্তি নির্মাণের সঠিক পথ—ব্যবহারকারীকে প্রথমে বসিয়ে তার ভাষায় সমস্যা শোনা, তারপর প্রযুক্তি সাজানো। যত বড় প্ল্যাটফর্মই হোক, যদি ব্যবহারকারী বুঝতে না পারে বা তার কাজকে সহজ না করে, তবে সেই বিনিয়োগ বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ব্লকচেইনের মতো জটিল প্রযুক্তিও একই কারণে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই হয়নি। এআই ক্ষেত্রেও একই চিত্র—শুধুমাত্র অটোমেশনের জন্য অটোমেশন নয়, বরং প্রকৃত মানবিক সমস্যার সমাধানই এআই-এর সাফল্যের চাবিকাঠি।
রকেটের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি বিক্রেতা নয়, ব্যবহারকারীই নির্মাণের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। যে কোম্পানিগুলো এই নীতি অনুসরণ করে, তারাই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে—এটাই বর্তমান প্রযুক্তি বাজারের মূল শিক্ষা।




