বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রবি তাদের গ্রাহকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন থেকে আলাদা আলাদা সাবস্ক্রিপশন কিংবা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের ঝামেলা ছাড়াই একটি মাত্র সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে একাধিক জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠান তাদের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সেবার কথা ঘোষণা করেছে।
গ্রামীণফোন তাদের এই সেবার নাম দিয়েছে ‘ওয়ানএআই’। মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন। এর আওতায় চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই, ক্লড, গ্রোক এবং ডিপসিকের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলো ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। গ্রামীণফোনের দাবি, এই সেবাটি সৃজনশীল কাজ, কোডিং, সফটওয়্যার তৈরি, কনটেন্ট রাইটিং, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ এবং গবেষণার কাজে অত্যন্ত কার্যকর হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে তারা মাসে ৭১ টাকা থেকে প্যাকেজ চালু করেছে, যার মাধ্যমে আনলিমিটেড চ্যাট এবং অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রেজেন্টেশনের কাজে সহায়তা পাওয়া যাবে। গ্রাহকেরা সরাসরি মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে এই প্যাকেজগুলো কিনতে পারবেন।
এই সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে এআই-এর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআই-এর মতো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য করবে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, মাইজিপি অ্যাপে এই সেবা যুক্ত করার ফলে শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি এআই-এর সম্ভাবনা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতাকে আরও সহজ করবে।
অন্যদিকে, রবি আজিয়াটাও ‘এভরি এআই’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘রবি এআই স্পেস’ চালু করেছে। মাই রবি অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই এবং ডিপসিকের মতো মডেলগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। রবির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তা করা। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন অথবা নির্দিষ্ট বান্ডেল প্যাক কিনে এআই টোকেন সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে, যার পরিমাণ ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মধ্যেই দেখতে পাবেন।
রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জিয়াদ সাতারা জানান, বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কম হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবাগুলো সরাসরি গ্রহণ করতে পারতেন না। ‘রবি এআই স্পেস’-এর মাধ্যমে সেই বাধা দূর করে একটি অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যা দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।




