এক সময়ের জনপ্রিয় সংগীত মাধ্যম কম্প্যাক্ট ডিস্ক বা সিডি আবারও ফিরে আসছে ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকায়। স্মার্টফোন এবং অনলাইন স্ট্রিমিং সেবার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে সিডির ব্যবহার একসময় তলানিতে ঠেকেছিল। তবে সম্প্রতি এক চমকপ্রদ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (আরআইএএ) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সিডির বিক্রি ৪৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে মোট ১ কোটি ৭৫ লাখটি সিডি বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৫ লাখ ইউনিট বেশি। গত বছর এই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ ইউনিট। বিক্রির এই উল্লম্ফন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে আয়ের ওপর। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সিডি বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা চলতি বছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ১১ লাখ ডলারে। অর্থাৎ, আয়ের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫৮.৬ শতাংশ।
এই উত্থানটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর ঠিক আগের বছর সিডির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। আরআইএএ-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৩৩ লাখ সিডি বিক্রি হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৯৫ লাখে, যা ছিল ১১.৬ শতাংশের একটি পতন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে 'জেন-জি' প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। স্মার্টফোনের অবিরাম নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদম-চালিত কন্টেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে তারা এখন অপেক্ষাকৃত সরল ও পুরনো প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। সিডির পাশাপাশি ভিনাইল রেকর্ড, ডিজিটাল ক্যামেরা, ফিচার ফোন, টাইপরাইটার এবং ল্যান্ডলাইন ফোনের মতো রেট্রো পণ্যগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। ডিজিটাল জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং প্রযুক্তির জটিলতা থেকে দূরে থাকতে তারা এই পুরনো মাধ্যমগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। এই চাহিদার ফলে ইবে-র মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং রেট্রোস্পেক্টের মতো বিশেষায়িত ওয়েবসাইটসহ পুরনো পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে তরুণ প্রজন্মের।




