শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজে মেতেছেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত। তার মতে, উৎসবের আনন্দ কোনো বয়সের সীমায় আটকে থাকে না। শৈশবের পূজার স্মৃতি আর বর্তমানের অভিজ্ঞতার মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য খুঁজে পান না; বরং মনে করেন, তিনি এখনও সেই ছোটবেলার মতোই আনন্দ উপভোগ করছেন। জীবনকে তিনি একটি গোলাপের পাপড়ির সাথে তুলনা করে বলেন, যেভাবে পাপড়ি একে একে খুলে সুরভি ছড়ায়, তার জীবনও সময়ের সাথে সাথে আরও সুন্দর ও আনন্দময় হয়ে উঠেছে। এটাই তার জীবনদর্শন।
উৎসবের এই দিনগুলোতে ঢাকার বিভিন্ন জনপ্রিয় মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। মহাসপ্তমীর দুই দিনই বনানী, খামারবাড়ি, কলাবাগান, বসুন্ধরা এবং উত্তরার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন তিনি। যদিও অনেক জনপ্রিয় মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তবুও ভিড় এড়িয়ে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। সাধারণত পূজার সময়ে তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করেন এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান।
পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা নিয়ে পূজা জানান, বছরজুড়ে নাচের মঞ্চে তার প্রচুর কাজ থাকে, তাই দুর্গোৎসবের এই সময়টিকে তিনি পুরোপুরি ছুটির হিসেবে দেখছেন। এই অবকাশকালীন সময়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য সময় ব্যয় করছেন। আগামী দিনের কাজের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ভ্যাকেশনে আছেন এবং ছুটির মাঝে কাজের কথা আলোচনা করতে আগ্রহী নন। পূজা শেষ হওয়ার পরেই তিনি নতুন পরিকল্পনাগুলো নিয়ে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য যে, পূজা সেনগুপ্ত রেপার্টরি ডান্স থিয়েটার 'তুরঙ্গমী'-র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ২০১৪ সালে এই দলটির যাত্রা শুরু হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব নাচের ধারা তৈরি করা এবং এই শিল্পে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য ড্যান্স থিয়েটার ও কোরিওগ্রাফির মধ্যে রয়েছে 'ওয়াটারনেস', 'অনামিকা সাগরকন্যা', 'নন্দিনী', 'হোচিমিন', 'অদম্য', 'ধরা তরু কাব্য', 'অরণ্যা' এবং 'রেজুলিউশন'। নাচের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশেষ করে 'হোচিমিন' প্রযোজনার জন্য ২০২২ সালে তিনি ভিয়েতনাম সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'ফ্রেন্ডশিপ মেডেল' লাভ করেন।




