ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশব্যাপী তিন মাস মেয়াদি বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের প্রারম্ভিক দিনেই রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজার ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই গাফিলতির প্রেক্ষিতে রাপা প্লাজা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সুশীল চন্দ্র রবিদাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরীর কাছ থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
অন্যদিকে, ডিএনসিসি তাদের আওতাধীন ৫৪টি ওয়ার্ডে ব্যাপক আকারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২৪টি দলে বিভক্ত প্রায় দেড় হাজার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। এই অভিযানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউট সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন। মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, বিমানবন্দর এলাকা, লালমাটিয়া, রাজাবাজার ও মণিপুরিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। অভিযানে বিমানবন্দর এলাকার একটি দোকানে লার্ভা পাওয়ার কারণে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, ছাদবাগান পরিদর্শন, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং নোভালিউরন ট্যাবলেট ব্যবহারের কাজ চালানো হয়।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি চলবে, এরপর প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর নতুন পরিকল্পনা করে তিন মাসব্যাপী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবারের মূল কৌশল হলো ‘১০০ জন, ১০০ দিন, ১০০ হটস্পট’। এর আওতায় ১০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী ১০০ দিনে নির্দিষ্ট ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সব প্রজননস্থল সম্পূর্ণ অপসারণ বা ট্রিটমেন্ট করবেন। আগে পুরো ওয়ার্ডকে হটস্পট ধরা হতো, তবে এবার নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ দলে বিডি ক্লিন, মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং এলআইইউপিসির সদস্যরাও যুক্ত থাকবেন। ডিএনসিসি জানিয়েছে, কেবল মশা নিধন নয়, বরং জমে থাকা পানি অপসারণ ও উৎস নির্মূলের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ করা হবে এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।




