রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বছিলা পুলিশ লাইনে আয়োজিত নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই এলাকায় কিশোর গ্যাং নামে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। তবে শুধু পুলিশের একার পক্ষে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর উদাহরণ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে রয়েছে।

সভায় র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও সভায় অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই — এই তিনটি বিষয় নিয়ে নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান আগের তিন মাসের সঙ্গে তুলনা করলে এই তিন ক্ষেত্রে উন্নতি দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা সঠিক নয়। নাগরিকদের প্রত্যাশা হলো মোহাম্মদপুরে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক কোনো প্রকার অপরাধ থাকবে না। পুলিশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নাগরিকদের পুলিশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেও বলা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি স্পটে অভিযান আরও তীব্র করতে হবে।

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাতে অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতরে যেই পাওয়া যাবে, তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি যৌথভাবে কাজ করবে। নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে অতি দ্রুত মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছিনতাই মোকাবিলায় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছিনতাইকারী যদি ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে, তবে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও তিনি বলেন।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে এবং জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। নাগরিকদের কমিউনিটি পুলিশিং, ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সভার সমাপ্তি ঘটান।