স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে হামের প্রকোপ এখনো শঙ্কাজনকভাবে বিস্তৃত। গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের লক্ষণ নিয়ে। মৃতদের মধ্যে ৫ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে ৩৯ জনের দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮১৬ জনের।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬ জনের শরীরে। এই দীর্ঘ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জনকে, তবে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম এবং হামজনিত উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ১৯ জনে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ২০২৫ সালে সারা বছর হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ১৩২ জন। এর আগের বছরগুলোতে ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২ এবং ২০২২ সালে ৩১১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ওই বছরগুলোতে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।