মূল্যস্ফীতির দীর্ঘ ছায়া এখন আমেরিকার ভোক্তা আচরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। করোনা মহামারির পর থেকে যে মূল্যস্ফীতি শুরু হয়েছে, তাতে ১ লাখ ডলারের বার্ষিক আয়ের মূল্য এতটাই ক্ষয় হয়েছে যে এই আয়ের মানুষরাও এখন অন্যান্য সবার মতোই দর কষাকষি করে কেনাকাটা করছেন। আগে ওয়ালমার্টের মতো ডিসকাউন্ট চেইনে বেশি আয়ের গ্রাহকদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ডলার স্টোরের মতো আরও সস্তা দোকানগুলোও।

মঙ্গলবার গোল্ডম্যান শ্যাক্স গ্লোবাল কনজিউমার অ্যান্ড রিটেইল কনফারেন্সে ডলার জেনারেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টড ভাসোস বলেছেন, গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারে পৌঁছালে তাদের প্রধান গ্রাহকরা — যাদের বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার ডলারের কম — কেনাকাটার ধরন বদলে ফেলেন। এই সময়ে তারা বাসার কাছের দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, বারবার দোকানে যান এবং প্রতিবার কম পণ্য কিনে নেন। কারণ পরের সপ্তাহে কী হবে তা না জানার কারণে তারা যতটা সম্ভব সামর্থ্য অনুযায়ী কিনে রাখতে চান।

তবে ভাসোসের মতে, এই অর্থনীতিতে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষই নন, মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের গ্রাহকরাও এখন নিম্ন আয়ের মতোই আচরণ করছেন। সিকিং আলফার প্রতিলিপি অনুযায়ী তিনি বলেছেন, “কিন্তু এই অর্থনীতির মজার বিষয় হলো, বিগত বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির যে ধারাবাহিক চাপ ছিল, তাতে মধ্য থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের মানুষও আজকাল নিম্ন আয়ের গ্রাহকের মতো আচরণ করছে।”

এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্যালনে ৪.৪৭৬ ডলার, যা গত বছর এই সময়ে ছিল ৩.১৮৯ ডলার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-বিরোধী নীতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম লাফিয়ে ৬.৫০ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে ট্রাকে করে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। তবে শুধু জ্বালানি নয় — বিদ্যুৎ বিল, নতুন-পুরনো গাড়ি, বীমা, খাদ্য এমনকি শিশু পরিচর্যার খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ভাসোস বলেন, বছরে ১ লাখ ডলার বা তার বেশি আয় করছেন এমন মানুষও এখন এই চাপ অনুভব করছেন। তিনি যোগ করেন, “তাদের কাছ থেকে আমরা ক্রমাগত শুনছি, ‘১ লাখ ডলার আয় করেও আমি আর নিজেকে উচ্চ-আয়ের মনে করি না’ — কারণ আমি আগেই যে চাপগুলোর কথা উল্লেখ করলাম। তাই আমরা ডলার জেনারেলে বিশ্বাস করি যে, আমাদের পক্ষে সব ধরনের গ্রাহককে সেবা দেওয়া সম্ভব।”

তবুও ভোক্তারা বেশ স্থিতিস্থাপক — এর প্রধান কারণ তারা চাকরিতে বহাল আছেন। সাম্প্রতিক খুচরা বিক্রয় প্রতিবেদনে আগস্টে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, গ্যাস বাদ দিলে এই হার ১.১ শতাংশ। ভাসোসের মতে, যতদিন কর্মসংস্থান ঠিক থাকবে, ডলার জেনারেলের গ্রাহকরা মূল্যস্ফীতির এই পথচলায় নিজেদের মতো করে মানিয়ে নেবেন। তিনি আরও বলেন, “২ হাজার আইটেম ১ ডলার বা তার কম দামে বিক্রি করা গ্রাহকের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এই পরিবেশে।”

ইতিমধ্যে ১ লাখ ডলার আয় যে আর অর্থনৈতিক স্বস্তি দেয় না — তার আরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। হ্যারিস পোলের এক জরিপে দেখা গেছে, ছয় অঙ্কের আয়কারীদের ৬৪ শতাংশ মনে করেন তাদের আয় সাফল্যের মাইলফলক নয়, বরং টিকে থাকার জন্য ন্যূনতম শর্ত। এমনকি ২ লাখ ডলার বা তার বেশি আয়কারীদের মধ্যেও ৬৪ শতাংশ জরুরি খরচ মেটাতে রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহার করেছেন, ৫০ শতাংশ ১০০ ডলারের নিচে কেনাকাটায় “বাই নাউ, পে লেটার” পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং ৪৬ শতাংশ নিত্যখরচ চালাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করছেন।

সিমপ্লিফাই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ মাইকেল গ্রিন গত বছর একটি ভাইরাল সাবস্ট্যাক পোস্টে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, প্রকৃত দারিদ্র্যসীমা হওয়া উচিত ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। তিনি বলেছিলেন, প্রচলিত মাপকাঠি আমেরিকানদের জীবনযাত্রার খরচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারে না, এমনকি ছয় অঙ্কের আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও। “যদি সংকটের সীমারেখা — যে স্তরের নিচে পরিবারগুলো টিকতে পারে না — তাকে সৎভাবে বর্তমান ব্যয়ের ধরনের সঙ্গে আপডেট করা হয়, তাহলে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে,” যোগ করেন গ্রিন।