কঠিন দিনে কোনো উৎপাদনশীলতার কৌশল নয়, একটি শব্দের আশ্রয় নেন ‘বিগ ব্যাং থিওরি’র পরিচিত মুখ কুনাল নায়ার—সমর্পণ। ৪৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা, প্রযোজক ও উদ্যোক্তা জানান, যখন সবকিছু বিপর্যস্ত মনে হয়, তখন তিনি নিজেকে বলেন, “একটি নিঃশ্বাস নিন। একটু থামুন। দেখি কী ঘটে।” ফর্চুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, আমাদের মন সবসময় সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির দিকে ছুটে যায়, কিন্তু বাস্তবতা ততটা ভয়ংকর নয়। এমনকি সবচেয়ে খারাপ অবস্থাতেও মানুষ অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। তাই তাঁর কথায়, “থামুন, নিঃশ্বাস নিন, এই মুহূর্তে সমর্পণ করুন এবং দেখুন কী হয়।”
এই দর্শন তাঁর পেশাজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মাত্র ২৬ বছর বয়সে রাজেশ কোঠরাপালি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া নায়ার একসময় প্রতি পর্বে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার আয় করতেন, যা তাঁকে টেলিভিশনের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজনে পরিণত করেছিল। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গুড কার্মা প্রোডাকশনস এবং ডকুমেন্ট-স্টোরেজ অ্যাপ আইকিউ১২১-এর মতো উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ‘ক্রিসমাস কার্মা’ ছবিতেও প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।
তবে এই সফলতা তাঁকে কঠোর পরিশ্রম থেকে মুক্তি দেয়নি। চিত্রগ্রহণের সময় তাঁর দিন ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে, যেখানে পরবর্তী দিনের শুটিংয়ের আগে মাত্র ছয় ঘণ্টার বিরতি মেলে। ফলে ঘুমের সময় কমে মাত্র ছয় ঘণ্টায় নেমে আসে। “আমার নিয়মিত নয়-থেকে-পাঁচটার চাকরি নেই,” তিনি বলেন। “শুটিংয়ের সময় আমি আমার সময়সূচির দাস হয়ে যাই।”
এই ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি একটি কঠোর দৈনিক রুটিন মেনে চলেন। ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টা তিনি কিছুই করেন না—কফি পান করেন, বারান্দায় বসেন, ফোন দেখেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর জিমে যান এবং সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাজ শুরু করেন। চিত্রগ্রহণ না থাকলে দুপুর আড়াইটায় শেষ বৈঠক শেষ করে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেন; সম্ভব হলে ঘুমিয়ে নেন। পাঁচটার পর আবার কাজে ফিরেন।
সেটেও তাঁর মনোযোগ রক্ষার কৌশল রয়েছে। টেকের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল না করে বই পড়েন, প্রায়ই তাঁর চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বই বেছে নেন যেন মনোযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে। সন্ধ্যায় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন—ফোন করে বা চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে। অন্যথায় তাঁর কুকুরের সঙ্গে বারান্দায় নীরবে বসে গলফ, এনএফএল বা ইএফএল দেখেন, যা তাঁকে শান্ত করে। সপ্তাহের দিনে রাত সাড়ে সাতটায় বাড়িতেই রাতের খাবার খান, যদিও রান্না তিনি করেন না।
রাত পৌনে দশটায় বিছানায় যান এবং সাড়ে দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার লক্ষ্য রাখেন। ঘুমানোর আগে ফোন দূরে রাখেন এবং সম্পূর্ণ নীরবতায় নিজেকে সমর্পণ করেন—আগামীকালের চিন্তা ছাড়াই। তিনি স্বীকার করেন, এই মন্ত্রা তিনি প্রায়শই ব্যবহার করেন, বিশেষত অডিশনের পর যখন ফলাফলের অপেক্ষায় থাকেন এবং ইন্টারনেটে অন্য কেউ কাজ পেয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার সময়। “আমাদের নিয়ন্ত্রণে কেবল একটি জিনিস—আমরা কীভাবে জিনিসগুলো দেখি,” তাঁর মতে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, শুধু হলিউড নয়, বিশ্বের শীর্ষ নেতারাও চাপ সামলাতে মন্ত্রার সাহায্য নেন। গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই মনে করেন বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই গুরুত্বহীন। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস উদ্বেগের কারণ সরাসরি মোকাবিলা করেন। অন্যদিকে বিল গেটসের স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ওয়ারেন বাফেটের কথা স্মরণ করেন—সমাজ যে কঠিন সমস্যাগুলো রেখে গেছে, সেগুলোর সমাধান কঠিন হওয়াই স্বাভাবিক, তাই নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হওয়া উচিত নয়।




