ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে। বুধবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এই দলের পেছনে বিদেশি অর্থ এবং পাকিস্তানের যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর মতে, অবৈধ পথে বিদেশ থেকে অর্থ এনে ভারতে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করছে সিজেপি-র সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। জিতেন্দ্র সিংয়ের নির্দিষ্ট অভিযোগ যে, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং প্রধান কৌশলপ্রণেতা আশুতোষ রাঙ্কা বিদেশি অর্থদাতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু দাতা অভিজিৎ দীপকে অর্থ প্রদান করছেন এবং আশুতোষ রাঙ্কা সরাসরি পাকিস্তানি রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন। ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন, কিছু বিদেশি এনজিও এবং তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ চক্রান্তকারীদের সহায়তায় এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে সিজেপি-র মূল লক্ষ্য ছিল উৎসবের সময়ে রাজধানী দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। প্রতিবাদের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা ছড়িয়ে সমাজে বিদ্রোহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তুহিন সিনহা এই দলের কৌশলের সাথে কংগ্রেসের তুলনা টেনে বলেন, উভয় পক্ষই বিচার বিভাগকে আক্রমণ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাহুল গান্ধীর সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রার কথা উল্লেখ করে একে গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সিজেপি-র দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর তাদের আটক করা হয়েছিল এবং ৫০ হাজার রুপির মুচলেকার মাধ্যমে তারা মুক্তি পান। তবে মুক্তি পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ১৩ অক্টোবর তারা শর্ত ভঙ্গ করে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের (এসআইআর) প্রতিবাদ জানান এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন। উল্লেখ্য, প্রশাসন আগেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল করেছিল।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং পূর্বে আম আদমি পার্টির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলের সদস্য ছিলেন। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই তিনি এই দলের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম চালু করেন, যাকে তিনি রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সরকারের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইবি ও ‘র’-এর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থায়নের কথা বলে বিজেপি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি, যা তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে ফুটিয়ে তোলে। এই উত্তেজনার মাঝে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঞ্চালনায় বিজেপি, কংগ্রেস এবং আরএসএস—তিন পক্ষেরই তহবিলের উৎস নিয়ে একটি খোলামেলা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হোক।