বিদেশে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা থাকলেও সঠিক দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স নির্বাচন এবং বৃত্তির সুযোগ খুঁজে পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা প্রথমবার বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য ভিসা প্রস্তুতি এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বোঝা বেশ জটিল। এই অনিশ্চয়তা দূর করে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দেখাতে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে 'উইজডম এডুকেশন'। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে আসছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২৪৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্তরে তাদের সেবা গ্রহণ করেছেন।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের কার্যক্রম শুধু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত কোর্স ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, আবেদনপত্র তৈরি, বৃত্তির খোঁজ এবং ভিসা আবেদনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিসহ বিদেশযাত্রার পূর্ববর্তী দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় তাদের সেবার অন্যতম অংশ। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্রিটিশ কাউন্সিল আইইএলটিএস (British Council IELTS), পিয়ারসন পিটিই (Pearson PTE) এবং ইটিএস টোয়েফল (ETS TOEFL) পরীক্ষার নিবন্ধনে তারা পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল এইচ পলাশের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারিত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শক হিসেবে কামরুল এইচ পলাশের রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পেশাগত সনদ। তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল ট্রেইনড এজেন্ট, নিউজিল্যান্ড এডুকেশন এজেন্ট কোর্স (এনজেডইএসি) এবং আইসিইএফ আইএএস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি তিনি আইইএএ, এনএএফএসএ এবং ফ্যাড-ক্যাব এর মতো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থায় পেশাগতভাবে যুক্ত। এই দক্ষতার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের অর্জিত পুরস্কারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রিটিশ কাউন্সিল সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স ২০২৫–২৬ এবং ইউপি এডুকেশন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩।
উইজডম এডুকেশন স্পষ্টভাবে জানায় যে, কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির পক্ষেই ভিসার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের হাতে। তাই তারা আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক নথিপত্রের মাধ্যমে আবেদন প্রস্তুত করার ওপর জোর দেয়। প্রতিষ্ঠানটির একটি বিশেষ দিক হলো, তারা পরামর্শ ও আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে না। তবে টিউশন ফি, ভিসা ফি, বিমা এবং ভাষা পরীক্ষার খরচ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হয়।
ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বনানী ও ধানমন্ডিতে কার্যালয়ের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও তাদের নিবন্ধিত অফিস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য ও পরামর্শ আরও সহজলভ্য করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং যোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স নির্বাচনের মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন সফল করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছে।




