জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্লাজা এবং সানের সড়কে এক বিশাল আয়োজনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা। সিরাতুন নবী (সা.) হিজরি ১৪৪৭-এর বিশেষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবন সংলগ্ন সড়কে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই বইমেলা, যা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে খোলা থাকবে।
মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং ধর্মচর্চায় এই ধরনের মেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, গত তিন দশকে আরবি থেকে বাংলায় উচ্চমানের অনুবাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তরুণ আলেমদের হাত ধরে বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের লেখা বিভিন্ন বিষয়ের বই এবং আরবি সাহিত্যের অনুবাদ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে, যার প্রতিফলন এই মেলায় দেখা যাবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদেশি প্রকাশকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
এবারের মেলার একটি বিশেষ দিক হলো বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো লেবানন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে মোট চারটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এই মেলায় স্টল দিয়েছে। মোট ১৭৯টি স্টলে ১৫০টি প্রকাশনা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের বই প্রদর্শন করছে। মেলার দক্ষিণ প্রান্তে বিদেশি প্রকাশকদের স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস সালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আখতার হোসেন প্রামাণিক এবং মিসরের রাষ্ট্রদূত উমর ফাহমি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লেবাননের প্রকাশক হিশাম আবদুর রহিম, প্রকাশকদের পক্ষে আহমদ রফিক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব ইসমাইল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খলিলুর রহমান।
মেলার বইয়ের কমিশনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করছেন প্রকাশকেরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের প্রকাশনাগুলোতে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছে। অন্যান্য প্রকাশকেরা তাদের নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন প্রদান করছেন। মেলায় বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যাচ্ছে; যেমন—রাহনুমা প্রকাশনী ইসলামি ভাবধারার ফিকশন, সামাজিক উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি আইন, ফিকাহ এবং গবেষণাভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি তাদের মাসিক সাময়িকী প্রদর্শন করছে।
উদ্বোধনের পর অতিথিরা স্টলগুলো পরিদর্শনে করেন এবং সন্ধ্যায় সীমিত পরিসরে বই কেনাবেচা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এমফিল করা শিক্ষার্থী সাফায়েত তৌসিফ জানান, গবেষণার প্রয়োজনে তিনি মেলায় এসেছেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টল থেকে ইংরেজি ভাষায় ইসলাম চর্চা বিষয়ক বই সংগ্রহ করেছেন। প্রথম দিন ক্রেতার ভিড় কম থাকলেও প্রকাশকেরা আশা করছেন, নির্দিষ্ট পাঠক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি বাড়বে।




