বাল্যবিয়ের ফলে কিশোরীদের মনে যে গভীর প্রভাব পড়ে, তা তাদের আচরণ এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুটে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর ও মনোবিদ ফজিলাতুন নেছা জানান, বিয়ের পর কোনো কিশোরী যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে কিংবা তার ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে তা মানসিক চাপের লক্ষণ হতে পারে।
মনোবিদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে এই মানসিক সমস্যাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। যেমন—অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা, সবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া, খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম, ঘুমের সমস্যা কিংবা জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। বিশেষ করে যদি কোনো কিশোরী নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৈশোরের স্বাভাবিক সময়েও কিশোর-কিশোরীদের আচরণে কিছু পরিবর্তন আসে। এই বয়সে তারা অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তর্ক করে কিংবা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই স্বাভাবিক পরিবর্তনের সাথে যদি হঠাৎ করে বড় ধরনের আচরণগত বিচ্যুতি দেখা দেয়, তবে সেটিকে কেবল বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং কিশোরীটি কোনো মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
বাল্যবিয়ের ফলে কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। তাই পরিবারের সদস্যদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তাদের মেয়ে বা আত্মীয় কিশোরীদের ঘুম, খাবার এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখেন এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে দ্রুত পদক্ষেপ নেন।




