শহুরে ছোট ঘরগুলোতে জায়গার সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে খুব দ্রুত তা অগোছালো হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বসার ঘরের বিশাল আসবাবপত্র, রান্নাঘরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিংবা শোবার ঘরে বিছানার নিচের অব্যবহৃত অংশ ঘরকে প্রয়োজনের তুলনায় আরও ছোট করে তোলে। এই সমস্যা সমাধানে এবং জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে 'মাল্টিইউজ' বা বহুমুখী আসবাবপত্রের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন। রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা এই বিশেষজ্ঞের মতে, এমন আসবাব যা একই সঙ্গে একাধিক কাজে ব্যবহৃত হয় অথবা প্রয়োজনে ভাঁজ করে সরিয়ে রাখা যায়, তা ঘরের মেঝে খালি রাখতে সাহায্য করে। ফলে চলাচলের জায়গা বাড়ে এবং ঘরটি দেখতে অধিক পরিচ্ছন্ন ও খোলামেলা মনে হয়। তার মতে, যেসব আসবাবের উচ্চতা পরিবর্তন করা যায় বা যা মেঝে থেকে কিছুটা ওপরে রাখা সম্ভব, সেগুলো ছোট ঘরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।

রান্নাঘরের ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, বেসিন বা চুলার পাশের জায়গাটি সাধারণত রান্নার প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী জমে থাকলে কাজের জায়গা কমে যায়। তাই রান্নাঘরে আলমারির মতো বহুমুখী আসবাব ব্যবহার করা উচিত, যেখানে রান্নার সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ছোটখাটো জিনিস গুছিয়ে রাখা যায়। একইভাবে, বসার ঘরে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের জন্য বড় টেবিল বা আলমারি ব্যবহার না করে দেয়ালের সাথে লাগানো তাক বা কেবিনেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে মেঝের জায়গা দখল হয় না এবং ঘরটি প্রশস্ত দেখায়।

ঘর থেকে বড় টেবিল ও চেয়ারের জায়গা কমাতে দেয়ালের সাথে সংযুক্ত ভাঁজযোগ্য টেবিলের কথা বলেছেন গুলশান নাসরিন। কাজ শেষ হওয়ার পর এই টেবিলগুলো গুটিয়ে রাখা যায়, ফলে চলাচলের জন্য অতিরিক্ত স্থান তৈরি হয়। শোবার ঘরের ক্ষেত্রে তিনি বিছানার নিচের অব্যবহৃত জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন। অনেক সময় বিছানার নিচে জিনিস রাখা হলেও তা বের করা কঠিন হয়। এর পরিবর্তে যদি বিছানার ভেতরেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা স্টোরেজ তৈরি করা থাকে, তবে সেখানে কম্বল, চাদর বা মৌসুমি পোশাক রাখা সহজ হয়। এতে করে ঘরে আলাদা বড় আলমারি রাখার প্রয়োজনীয়তা কমে আসে।

বসার ঘরের কফি টেবিলের ক্ষেত্রেও তিনি বহুমুখী ব্যবহারের কথা বলেছেন। কেবল সাজসজ্জার জন্য টেবিল না রেখে উচ্চতা পরিবর্তনযোগ্য টেবিল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এমন টেবিলের উপরের অংশ ওপরে তুলে সেটিকে খাবার টেবিল বা কম্পিউটার ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। পাশাপাশি টেবিলের ভেতরের অংশে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুকিয়ে রাখা সম্ভব। এভাবে একটি আসবাবই টেবিল, কাজের জায়গা এবং স্টোরেজ—এই তিন ভূমিকা পালন করে, যার ফলে ঘরে অতিরিক্ত বাক্স বা আলমারির প্রয়োজন পড়ে না।