রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 'ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ উদ্ভাবক ও গবেষকেরা নিজেদের তৈরি নানা ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন।

প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবন ও ধারণা প্রদর্শিত হচ্ছে এ আয়োজনে। এর মধ্যে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎচালিত যাত্রীবাহী গাড়ি 'সান কার' ও 'সোলার সেচ' পাম্পকে ঘিরে। ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ তাদের তৈরি 'সান কার' প্রদর্শন করছে। চালকসহ তিনজন যাত্রী নিয়ে চলতে সক্ষম এ বাহনটি চলার সময়ই সূর্যের আলো থেকে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী জানান, সূর্যের আলো না থাকলেও বাহনটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলতে পারবে। প্যাডেলচালিত ও বিদ্যুৎ–চালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে তৈরি এ গাড়িটি চার চাকার হওয়ায় তুলনামূলকভাবে কম দুর্ঘটনাপ্রবণ বলেও জানান তিনি। বাহনটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেলায় এনেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প 'সোলার সেচ'সহ বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ও গাড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়টির খণ্ডকালীন প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, কৃষিজমির সেচকাজে ব্যবহার উপযোগী এ পাম্পটির মাধ্যমে প্রতি ২০ সেকেন্ডে ৫০০ লিটার পানি উত্তোলন করা যায়। অন্যদিকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থীরা 'চৌকস প্রহরী' নামের একটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করছে। ক্যামেরাযুক্ত এ অস্ত্রটি দূর থেকে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এমআইএসটির সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জাওয়াদুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তের অনেক দুর্গম এলাকায় সহজে পৌঁছানো যায় না, সেখানে অপরাধের ঝুঁকি থাকে। ভারত ও চীনের মতো দেশে সংক্রিয়ভাবে গুলি করতে সক্ষম এ ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় বা মানুষের সহায়তায় পরিচালিত হতে পারে এ অস্ত্রটি।

আখের বর্জ্য থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট ও গ্লাস তৈরি করে মেলায় অংশ নিয়েছে 'শূন্য' নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আকিল আহমেদ জানান, আখের ফেলে দেওয়া অংশ ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের প্লেট ও গ্লাসের প্রায় সমান দাম হলেও তাদের পণ্য পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন অধিবেশনে উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।