ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক দুটি আদালত থেকে এই রায় দেওয়া হয়।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালতে আসামি আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। এই তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, একই মামলার অপর আসামি দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিচার সম্পন্ন হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এল বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে এই রায় দেওয়া হয়। আদালত ওই কিশোরকে একটি ধারায় ১০ বছরের এবং অপর একটি ধারায় আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন, যা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। তিনি জানান, রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মকবুল হোসেন সরকার বলেন, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তার দাবি, আসামিরা জবানবন্দি প্রত্যাহার করে জানিয়েছেন যে পুলিশ তাদের জোরপূর্বক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করলেও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ছাড়া ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় অন্য কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ৫০০ গজ দূরে কংস নদের বাঁকে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে, যারা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রায়ের সময় নিহত শিশুর বাবা-মা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছে।




