মানিকগঞ্জ জেলায় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ৩০ জুন বিকেলে বাবা জ্বরে অসুস্থ থাকায় কিশোর সাকিবুল ইসলাম তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে মিতরা স্ট্যান্ড থেকে গোলাইডাঙ্গা যাওয়ার জন্য আসাদুজ্জামান নামের এক যাত্রী ২০০ টাকা ভাড়ায় তার অটোরিকশায় ওঠেন।
সিঙ্গাইর উপজেলার দিকে যাওয়ার পথে খানাখন্দে ভরা সড়কে ঝাঁকুনি শুরু হলে আসাদ চালককে ধীরে চালানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু একপর্যায়ে ঝাঁকুনিতে তিনি অটোরিকশার ভেতরে পড়ে গেলে ক্রোধান্বিত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি সড়কের পাশের কাদায় সাকিবুলের নাক ও মুখ চেপে ধরেন, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আসাদ পালিয়ে যান এবং পরদিন সকালে সিঙ্গাইরের গোলাই নতুনপাড়া এলাকার একটি পাটখেত থেকে কিশোরের মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পর ২ জুলাই নিহতের বাবা রহমত আলী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের যাদুরচর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে একটি খাবার হোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সদর উপজেলার বরুন্ডি এলাকার বাসিন্দা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জে পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমেই মূলত আসাদকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আজ দুপুরেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাকিবুল ইসলাম সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহমত আলীর ছেলে এবং বয়স মাত্র ১৬ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন, যার কারণে সেদিন সাকিবুল নিজেই অটোরিকশা চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।




