জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশি যুবককে দেশে ফেরত পাঠানোর পর তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে থাকাকালে তারা বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের কার্যক্রম থেকে বোঝা যায়, তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে পারেন। আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা, জঙ্গি অর্থায়নের পেছনে কারা আছে, দেশে তাদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে রিমান্ড জরুরি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন যুক্তি দেন, সিঙ্গাপুরে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। এই দুই যুবকের কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কেন তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে তা জানতে রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিচারক একজন আসামিকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছিল। জবাবে রিশাদ আলী নামের আসামি আদালতকে বলেন, ২০২৩ সালে ফারাবী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ফেসবুকে কিছু লেখালেখি করেছিলেন বলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারক ফারাবীর পরিচয় জানতে চাইলে রিশাদ বলেন, তিনি বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের এক নেতা। তিনি কারাগারে ছিলেন এবং এখন মুক্ত।

শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানায়, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।