সাধারণ মানুষের জন্য দৈনিক দুই হাজার ক্যালরি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, কিন্তু নরওয়ের ফুটবল তারকা আর্লিং হলান্ডের খাদ্যতালিকায় রয়েছে প্রায় ছয় হাজার ক্যালরি। তাঁর খাবারের তালিকায় কলিজা, গুর্দার মতো অর্গান মিট এবং কাঁচা দুধের মতো উপাদানও স্থান পেয়েছে। হলান্ডের এই ডায়েট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন খাদ্যাভ্যাস কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর এবং সবার জন্য প্রযোজ্য? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার পার্ডু ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ লরেন লিংক বলেছেন, দৈনিক ছয় হাজার ক্যালরি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি, তবে খেলাধুলার জগতে এটি মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত দুই হাজার ক্যালরি উচ্চপর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ক্রীড়াবিদদের জন্য তিন হাজার ক্যালরিও তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হয়। অনেক খেলোয়াড় চার থেকে পাঁচ হাজারের বেশি ক্যালরি গ্রহণ করেন, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছয় থেকে সাত হাজার ক্যালরিতেও পৌঁছায়। বিশেষত যারা প্রচুর শক্তি খরচ করেন—যেমন আক্রমণাত্মক অবস্থানের ফুটবলার, যারা ম্যাচে বহু মাইল দৌড়ান, অথবা যারা প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সাঁতার কাটেন—তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্যালরি প্রয়োজন হতে পারে।

নিউইয়র্কের নর্থওয়েল হেলথের ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট জিয়ানকার্লো কারভালহোর মতে, যদি একজন খেলোয়াড়ের লক্ষ্য থাকে শরীরে চর্বি না বাড়িয়ে পেশি বৃদ্ধি করা, তাহলে দৈনিক ছয় হাজার ক্যালরি গ্রহণ স্বাভাবিক। তিনি বিখ্যাত সাঁতারু মাইকেল ফেলপসের উদাহরণ দেন, যিনি প্রতিযোগিতার সময় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করতেন। হলান্ডের প্রায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতা ও ২০৭ পাউন্ড ওজনের শরীরে চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম।

হলান্ডের খাদ্যতালিকার নির্দিষ্ট কিছু উপাদান নিয়েও দুই বিশেষজ্ঞের মন্তব্য রয়েছে। অর্গান মিট—কলিজা, কিডনি ইত্যাদি—পুষ্টিগুণে ভরপুর। সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা হলে এগুলো স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে নিয়মিত অর্গান মিট খাওয়ার আগে এটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আধুনিক ফুটবলাররা যেখানে সাবধানে ক্যালরি হিসাব করে ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, হলান্ড সেখানে আদিম মানবের খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করেন।

তবে কাঁচা দুধ নিয়ে লরেন লিংকের ভিন্ন মত রয়েছে। কাঁচা দুধ পাস্তুরায়িত না হওয়ায় এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা পাস্তুরায়নের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। হলান্ডের মতো তারকা হয়তো ভালো উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করেন, তবুও কাঁচা দুধের ঝুঁকি থেকে যায়। একইভাবে অতিরিক্ত লাল মাংস বা প্রোটিন গ্রহণও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। লাল মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত, নচেৎ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। সূত্র: মেডপেজ টুডে।