মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় টুথপেস্টের ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু সম্প্রতি এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছেন বা বন্ধ করার কথা ভাবছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ডেন্টাল সায়েন্সের মহাসচিব ডা. মো. আসাফুজ্জোহা বলেছেন, আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।
টুথপেস্টের মূল কাজ হলো দাঁতের প্লাক ও খাদ্যকণা দূর করা, ফ্লোরাইডের মাধ্যমে এনামেল শক্তিশালী করা, ক্ষয় প্রতিরোধ করা, মুখের দুর্গন্ধ কমানো এবং মাড়ির প্রদাহ রোধে সহায়তা করা। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্রাশ না করলে ক্যাভিটি, জিনজিভাইটিস, পেরিওডন্টাইটিস এবং অকালে দাঁত হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি মাড়ির রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও গর্ভাবস্থার নানা জটিলতার সম্পর্কও গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই মুখের স্বাস্থ্য অবহেলার ক্ষতি বৈজ্ঞানিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। অতীতে কিছু টুথপেস্ট ও প্রসাধনীতে পরিষ্কারক উপাদান হিসেবে প্লাস্টিক কণা ব্যবহৃত হতো, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বহু দেশে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় টুথপেস্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করে না এবং কাঁচামাল নির্বাচনে সতর্ক থাকে। তবে কাঁচামাল বা প্যাকেটজাতকরণের কারণে অনিচ্ছাকৃত দূষণের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাবার, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় বটে। তবে টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর, তা নিশ্চিত করতে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। এ কারণে সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমানের গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং টুথপেস্ট ব্যবহারের বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করেনি।
সচেতন থাকতে হলে বিএসটিআই অনুমোদিত টুথপেস্ট বেছে নেওয়া জরুরি। কেনার সময় উপাদান তালিকায় পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, অ্যাক্রিলেটস কোপলিমারের মতো সিনথেটিক পলিমার আছে কি না দেখে নিতে হবে। ব্রাশের সময় টুথপেস্ট গিলে ফেলা যাবে না, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে বড়দের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মটরদানার সমান বা ব্রাশের এক-তৃতীয়াংশ টুথপেস্ট যথেষ্ট। এছাড়া নরম ব্রাশ ব্যবহার করে সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।




