জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ২১ জুলাই রাত ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) কিছু শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করে। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশের মনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই সময় নবীন শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল, কান ধরে ওঠবস করানো এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৫(৬) ধারা লঙ্ঘনের কারণে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী এই সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তিনি আরও বলেন, ওই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন এবং অভিযোগের পক্ষে তারা কিছু প্রমাণ ও আলামত সরবরাহ করেছেন। উপাচার্যের এখতিয়ারবলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রক্টর আরও জানান, অভিযোগ ও আলামত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি-র্যাগিং সেলে পাঠানো হবে। সেখানে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করা হবে এবং তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




