কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপকূলবর্তী সমুদ্র চ্যানেলে পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এনফোর্সমেন্ট মামলার শুনানিতে টোকিও-ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে মোট ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোডে এই অর্থ জমা দিতে বাধ্য থাকবে; অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা এই সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিষ্ঠানের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা—প্রকল্প পরিচালক মো. আকবর হোসেন পাটোয়ারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক কোজিমা—এই মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, প্রতিষ্ঠানটি হামিদিয়াদিয়া ও ঠাকুরতলা এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, তারা ভারী ড্রেজারের সাহায্যে সমুদ্রগর্ভ থেকে প্রায় দুই লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে। এই বালু মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, মাতারবাড়ী বন্দর প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ২ এপ্রিল এই অনুমতি প্রদান করে, যার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। বাজারে বালুর ঘনফুট প্রতি দাম ১৬ টাকা হলেও ঠিকাদারকে তা মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সায় সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তের পরই স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ে হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি বাড়তে পারে নদীভাঙন, বিঘ্নিত হবে জলপ্রবাহ, এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য।

অন্যদিকে, আইনজীবী সোহানা শারমিন গত ১৫ জুন হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ রিট আবেদন দাখিল করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে বালু সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে কোনো উন্মুক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আইনত সঠিক নয় বলে তার বক্তব্য।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপের ফলে বালু উত্তোলন বন্ধ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রকৃত আইনানুগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।