রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও অংশগ্রহণকারী নারীদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে নির্মিত 'জুলাই শহীদ নারী মঞ্চ' ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মঞ্চের মাঝের স্তম্ভে থাকা দশজন নারীর আবক্ষ ভাস্কর্য বর্তমানে কালো কাপড়ে আবৃত অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে যে কাপড়ের নিচ থেকে অন্তত চারটি নারী ভাস্কর্য সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
'চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে উত্তরা' (সংক্ষেপে চব্বিশের উত্তরা) নামের পেশাজীবী অভিভাবকদের একটি সংগঠনের সদস্য মনীষা মাফরুহা জানান, গত শনিবার তারা মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণ করতে গিয়ে দেখতে পান ভাস্কর্যগুলো খোলা অবস্থায় রয়েছে। পরদিন রবিবার গিয়ে তারা দেখেন, ওই অংশ পুনরায় কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাপড় সরিয়ে তারা দেখতে পান চারটি নারী ভাস্কর্য সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধু নারী ভাস্কর্যগুলো সরানো হলো এবং কারা এ কাজ করেছে। এই ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অপসারিত ভাস্কর্য উদ্ধার ও পুনঃস্থাপন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মঞ্চটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বারোপ করেছেন মনীষা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তাদের সংগঠন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঞ্চটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত উদ্বোধন উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সম্ভব হয়নি। তখন সিটি করপোরেশনের নির্দেশে ঠিকাদার নারী ভাস্কর্যগুলো কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর দীর্ঘদিন কাপড় না থাকলেও সম্প্রতি আবার নতুন করে তা বাঁধা হয়েছে। দিয়াবাড়ি গোলচত্বরের পাশে চায়ের দোকানি শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি শুরু থেকেই ভাস্কর্যগুলো ঢাকা অবস্থায় দেখছেন। রোদ ও বৃষ্টিতে কাপড় পুরোনো হয়ে খুলে গেলে আবার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তা বেঁধে দেন। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ রাকিব নামে এক হোটেলকর্মী বলেন, গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে তিনি কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তিন-চারজন ব্যক্তিকে কালো কাপড় দিয়ে ভাস্কর্য বাঁধতে দেখেন, কিন্তু তাদের কাউকে তিনি চেনেন না।
মঞ্চের ফলকে উদ্বোধক হিসেবে তৎকালীন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নাম রয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, 'চব্বিশের উত্তরা' সংগঠনের প্রস্তাবে তাঁর উদ্যোগেই মঞ্চটি নির্মিত হয়েছিল। তবে নির্মাণকালে তিনি উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ow ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মনীষা মাফরুহা তাঁর ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লেখেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা স্মরণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার কেন্দ্র হিসেবে পরিকল্পিত একটি স্মৃতিমঞ্চ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




