কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিলে এক স্থানীয় বাসিন্দার মাইক ঘোষণায় পাঁচ শতাধিক মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালান। সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ প্রবল স্রোতে ধসে পড়ে। ফরজ উদ্দিন (৭০) নামের ওই বাসিন্দা প্রথমে বাঁধের ব্লক পিচিং ভেঙে পড়তে দেখে দ্রুত পাশের মসজিদে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষ জিও ব্যাগে বালু ভরে নদীতে ফেলতে থাকেন। এতে আপাতত ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ফেলানী বেওয়া (৭৫) বলেন, বিকেল থেকেই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে এবং হঠাৎ করে ব্লকগুলো নদীতে তলিয়ে যেতে থাকে। তিনি সরকারের কাছে ভাঙন থেকে রক্ষার অনুরোধ জানান। ফরজ উদ্দিন মতে, বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে কাঁচকোল, চিলমারীসহ আশপাশের বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হবে এবং হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি স্থায়ী টি-বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব তীরে নতুন চর জেগে ওঠায় মূল স্রোত পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসেই চারটি স্থানে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার ইতিমধ্যে ডাম্পিং করা হয়েছে।
তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সর্দার মজিবুর রহমান মনে করেন, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, কালিরকূড়া থেকে কাঁচকোল টি-বাঁধ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং প্রবল স্রোতে ব্যাগগুলো সঠিক জায়গায় পড়ছে কি না তা বোঝা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, এক লাখ জিও ব্যাগ ও অন্তত তিনটি টি-বাঁধ নির্মাণ করা গেলে নদীর স্রোত তীর থেকে সরে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের দুই বছর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেয়। একাধিকবার জরুরি সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষাকালে ভাঙনের শঙ্কা বাড়ে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পুরো বাঁধ পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও তা অনুমোদন পায়নি। নতুন করে প্রকল্প পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান।
চলতি জুলাই মাসে বাঁধটির চারটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাবে বারবার একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।




