রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনের সময় ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জমা দিয়েছেন প্রসিকিউশন। মামলায় মোট ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিনসহ ৮ জন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। অপরদিকে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীমসহ ১৮ জন পলাতক।
প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত অভিযোগে দুটি পৃথক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের খাবার বিতরণের সময় তিনি গুলির আঘাতে জখম হন। তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন ওই এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে। এছাড়া একটি সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান রাইডশেয়ার চালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ওইদিন উত্তরায় গুলি করে হত্যা করা হয় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানা নামে চারজনকে। এই নিয়ে মোট ১১ জনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।




