বিশ্বকাপ ফুটবলের মালিকানা অংশ বা স্টেক বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর গভীর সংকটে পড়েছেন ফুটবলের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই সিদ্ধান্তের ঢেউ এখনও থামেনি, এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠতে শুরু করেছে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান প্রশ্ন। যদি তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হন, তবে কে তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন, সেই নিয়ে জল্পনা কল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
বিশ্বকগের বাণিজ্যিক স্বত্ববিক্রির প্রস্তাবটি শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তদের একটি বড় অংশ এটিকে খেলাটির মূল্যবোধ ও ঐতিয্যের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করেছিল। চাপের মুখে অবশেষে সেই পরিকল্পনা প্রত্যযাহার করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এই ঘটনাকে তার নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, তার দীর্ঘ কার্যকাল জুড়ে বিতর্ক যেন নিত্যসঙ্গী ছিল। বিশ্বকাপের মেয়াদ বাড়ানো, আসরের আয়োজক দেশের সংখ্যা বৃদ্ধির মতো সিদ্ধানন্তগুলো প্রায়ই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ সৃষ্টি করেছে। সাবেক এই আইনজীবী ২০১৬ সালে ফিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন সংস্থাটি দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগে বিধ্বস্ত। তাকে তখন সংস্কারক হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উত্তরসূরি খোঁজা শুরু হয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্টের চেয়ার থেকে ইনফান্তিনোর বিদায়ের ঘটনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কয়েকটি নাম উঠে আসছে। তবে আপাতত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে তার অপসারণের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চাগিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবারের (১ আগস্ট ২০২৬) প্রতিবেদনে এই সংকটের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এবং ফুটবল বিশ্ব তার পরিণতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।




